
নেত্রকোনা থেকে কামরুল হাসান
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা সিন্ধা ইউনিয়ন গেরিয়া চন্দ্রপুর বাজার থেকে এক যুবককে পুলিশ পরিচয়ে তুলে এনে কলমাকান্দায় উপজেলার পোগলা ইউনিয়নে আটকে রাখার চেষ্টা করে দুই ভুয়া পুলিশ সদস্য। অপহৃত যুবকের চিৎকার ও চেচামেচিতে সাতজনের মধ্যে দুজন ভুয়া পুলিশকে আটক করে স্থানীয়রা। বাকিরা দৌড়ে পালিয়ে যায় ঘটনার পরপরই থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়, খবর পেয়ে থানা পুলিশ আসে আটককৃত ভুয়া পুলিশকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার ও আটক করে থানা নিয়ে যায়। এ সময় অপহৃত ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা গ্রামের সিজন মিয়া (৩৫) ও সুজাত মিয়া (৩৩)। উদ্ধার হওয়া যুবক সোহরাব হোসেন (২৮) বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওয়ারেছ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে বারহাট্টা উপজেলার সিন্ধা ইউনিয়ন এলাকা থেকে সোহরাব হোসেনকে তুলে নিয়ে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের আমবাড়ী এলাকায় আসে। তাদের আচরণ ও পরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়। দুপুরে স্থানীয়রা সিজন মিয়া ও সুজাত মিয়াকে এবং তাদের সঙ্গে থাকা সোহরাব হোসেনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমবাড়ী বাজার এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করে এবং সোহরাব হোসেনকে উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একজোড়া হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার বলেন, ‘স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক এবং বারহাট্টা থেকে নিয়ে আসা সোহরাব হোসেন নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply