1. stbanglatv@stbanglatv.com : stbanglatv : stbanglatv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
প্রতিদিনের পত্রিকার পাতায় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার সংবাদ—আমরা কোন সমাজের দিকে এগোচ্ছি? - Stbanglatv.com
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিনের পত্রিকার পাতায় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার সংবাদ—আমরা কোন সমাজের দিকে এগোচ্ছি?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ Time View

 

হুমায়ুন রশিদ জুয়েল

প্রতিদিন সকালে পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও বলৎকারের সংবাদ। কোথাও শিক্ষার্থী, কোথাও শিশু, কোথাও নারী—কেউই যেন নিরাপদ নয়। একের পর এক এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা শুধু ভুক্তভোগী পরিবারকেই নয়, পুরো সমাজকে আতঙ্কিত ও ব্যথিত করে তুলছে। প্রতিটি বাবা-মা আজ সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। প্রশ্ন জাগে—আমরা কি এমন একটি সমাজই গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের কেন্দ্র হওয়ার কথা, সেখানেও যখন যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, তখন মানুষের আস্থা গভীরভাবে নড়ে যায়। শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এর সঙ্গে সততা, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি, যা পরিবার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শুধু অপরাধীকে শাস্তি দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; প্রয়োজন অপরাধ সংঘটনের আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

পরিবারে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা, নারী-পুরুষের প্রতি পারস্পরিক সম্মানবোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তি কখনোই দায়ী নন; দায় সম্পূর্ণ অপরাধীর। তাই ভুক্তভোগীকে দোষারোপ নয়, বরং তার পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের মানবিক দায়িত্ব।

আজ সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার। মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার।

আসুন, আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করি, যেখানে কোনো শিশু, কোনো নারী বা কোনো মানুষ যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার ভয় নিয়ে বাঁচতে বাধ্য হবে না। একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানবিক সমাজ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2023

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি