
হুমায়ুন রশিদ জুয়েল স্টাফ রিপোর্টার
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধার অভাবে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। অনেক ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকায় গরমে রোগীদের চরম কষ্ট করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জানালা দিয়ে পানি ঢুকে রোগীদের বেড ভিজে যায়, ফলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
এছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হাসপাতালের বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য থাকা জেনারেটরটি বর্তমানে আর নেই। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জেনারেটর চালু রাখার মতো আমাদের সামর্থ্য ছিল না। তাই সেটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।” তবে জেনারেটর বিক্রির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে সরবরাহ করা খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় অনেক রোগীকেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। হাসপাতালেই যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা, তার অনেকগুলোই নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় কর্মরত চিকিৎসকদেরও অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। এতে রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রধান (টিএসও) বিভিন্ন অজুহাতে সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে প্রশাসনিক তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এই সুযোগে হাসপাতাল এলাকায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি মনে করেন, সাংবাদিকতার পরিচয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি, ইউটিউবার ও তথাকথিত ফেসবুক সাংবাদিকদের অযাচিত চাপ ও হয়রানিমূলক আচরণও চিকিৎসকদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, অবকাঠামোর সংস্কার, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তাড়াইল উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি হাসপাতালকে কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply