
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: কামরুল হাসান
ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আসমা ইউনিয়নের উজানগাঁও গ্রামে। একই পরিবারের চার ব্যক্তিকে জড়িয়ে পারিবারিক চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ ও প্রচারণাকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে জানা যায় ভিন্ন চিত্র।
সূত্র জানায়, বিআরএস রেকর্ডভুক্ত মালিক আব্দুল আজিজসহ তাঁর ভাই-বোন ও ভাতিজারা যে কবরস্থানে শায়িত রয়েছেন, সেই কবরস্থান নিয়ে জমির মালিকানা ও চলাচলের রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।
তাদের দাবি, বিআরএস খতিয়ান ১৫০ নম্বর জমির কবরস্থানের জায়গা ব্যতীত মৃত আব্দুল আজিজের ওয়ারিশরা তাঁদের আপন খালাতো ভাই হারুল মিয়ার বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য কোনো রাস্তা না থাকায় মানবিক দিক বিবেচনা করে ৩১১৩ নম্বর সাফ দলিলমূলে হারুল মিয়াকে ২ শতাংশ এবং মহসিন চাচাতো ভাইকে ৪ শতাংশ জায়গা লিখে দেন বলে জানা যায়।
চৌহদ্দি অনুযায়ী, উত্তর অংশে চলাচলের জন্য ২ শতাংশ জায়গা হারুল মিয়া ক্রয় করেন। সূত্র আরও জানায়, সুরমা আক্তারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ি ও রাস্তাসহ উক্ত জায়গাটি অভিযোগকারী সুরমা আক্তারের কাছে হারুল মিয়া বিক্রি করেন।
বিক্রিত জমির চৌহদ্দি অনুযায়ী রাস্তা তৈরি না করে জোরপূর্বক কবরস্থানের জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল এই নারীকে ঢাল করে একই পরিবারের চারজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাস্তা কেটে ফেলার অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি হালটের ওপর রাস্তা নির্মাণের ফলে এক ব্যক্তির স্বার্থে ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারের পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না করে নিজের পারিবারিক রাস্তা কবরস্থানের ওপর দিয়ে নির্মাণের ঘটনায় জায়গার মালিক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বাধা দিতে গেলেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং নারীর পক্ষ থেকে মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে দাবি অভিযুক্ত পরিবারের।
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় পরিচিত ও ভালো মানুষ হিসেবে বসবাস করে আসছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলেও দাবি তাঁদের।
তবে স্থানীয়দের দাবি, এই পরিবারের বিরুদ্ধে সরাসরি সরকারি হালট দখল ও ব্যক্তিগত পারিবারিক রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ আখ্যায়িত করার মতো কোনো সত্যতা তাঁরা পাননি।
স্থানীয় ও এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “এই পরিবারের লোকজন আমাদের এলাকার মানুষ। আমরা তাঁদের ভালোভাবেই চিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে যেসব কথা প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো আমরা বাস্তবে দেখিনি।
“জমি নিয়ে যদি কোনো বিরোধ থাকে, তাহলে দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যাচাই ছাড়া একটি পরিবারের চারজন সদস্যকে জড়িয়ে খারাপভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।”
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, তাঁরা কারও জমি বা পারিবারিক রাস্তা জোরপূর্বক দখল করেননি।
তাঁরা বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়। আমাদের কাছে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। আপনারা সেগুলো যাচাই করে দেখেন। সত্যটা যাচাই করে মানুষের সামনে তুলে ধরার অনুরোধ করছি।”
স্থানীয়দের আরও দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সেটি যাচাই করা সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।
সবশেষে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—অপপ্রচার নয়, যাচাই করা সত্যই সামনে আসুক। আর কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকে অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, প্রমাণ ও বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হোক।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply