1. stbanglatv@stbanglatv.com : stbanglatv : stbanglatv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
মধুপুরে ঐতিহ্য হারানোর পথে আনারস চাষ, সার ও বাজারজাতকরণে দিশেহারা কৃষক - Stbanglatv.com
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

মধুপুরে ঐতিহ্য হারানোর পথে আনারস চাষ, সার ও বাজারজাতকরণে দিশেহারা কৃষক

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৪ Time View

(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

আনারসের দেশ হিসেবে খ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুরে এখন কৃষকের মুখে হাসি নেই। লোকসান, সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বেহাল সড়ক যোগাযোগ ও বাজারজাতকরণের বাড়তি খরচে চাপে পড়ে আনারস চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক কৃষক। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ চাষাবাদ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

মধুপুরের জলছত্র, গারোবাজার ও ২৫ মাইল এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকেই নিজেদের উৎপাদিত আনারস নিয়ে হাটে আসেন কৃষকেরা। তবে ক্ষেত থেকে হাট পর্যন্ত আনার আগেই শুরু হয় নানা খরচের হিসাব। পরিবহন ভাড়া, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় এবং হাটে প্রবেশের সময় ‘লোকসান’ নামে আদায়ের অভিযোগে বাড়ছে কৃষকের ব্যয়।

চাষিদের অভিযোগ, আনারস চাষে ব্যবহৃত সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। একটি আনারস উৎপাদনে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগে। দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় শেষে বাজারে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসানে পড়ছেন তারা।

বর্তমানে আকারভেদে পাইকারিতে একটি আনারস ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর কৃষকের হাতে থাকে সামান্য অর্থ।

জলছত্র হাটে আনারস বিক্রি করতে আসা এক কৃষক বলেন, “আগে আনারস চাষ করেই সংসার চলত। এখন উৎপাদন খরচ এত বেড়েছে যে লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকাই ওঠে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই আনারসের পরিবর্তে জমিতে কলা ও পেঁপে চাষ করছেন।”

মধুপুরের আনারস শুধু দেশেই নয়, স্বাদ ও ঘ্রাণের কারণে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মধুপুরের আনারস জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যায় এই ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আনারস চাষিদের উৎপাদন খরচ কমাতে সার ও কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ, হাটে অনিয়ম ও চাঁদাবাজি বন্ধ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে ‘আনারসের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত মধুপুর তার ঐতিহ্য হারাতে পারে।

চাষিদের দাবি, দ্রুত সারের দাম নিয়ন্ত্রণ, হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় মধুপুরের মাটি থেকে একদিন হারিয়ে যেতে পারে সোনালি আনারসের ঐতিহ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি