
মোহাম্মদ করিম লামা-আলীকদম প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদমে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খাইয়া মো. হোসেন নামের এক হেলপার নিহত হইয়াছেন। এই দুর্ঘটনায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও যাত্রীসহ অন্তত ১০ জন আহত হইয়াছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলীকদম-চকরিয়া সড়কের তারাবনিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া হইতে আলীকদমগামী মাতামুহুরী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তারাবনিয়া এলাকায় পৌঁছাইলে বাসটির সামনের একটি চাকা পাংচার হইয়া যায়। এ সময় চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারাইলে বাসটি সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পাইয়া স্থানীয় লোকজন, আলীকদম থানা-পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাইয়া উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আহতদের উদ্ধার করিয়া আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাসের হেলপার মো. হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে তাঁহার মৃত্যু হয় বলিয়া জানা গিয়াছে। এ ঘটনায় বাসের চালক ও সুপারভাইজারসহ মোট ১০ জন আহত হইয়াছেন।
এদিকে একই দিন আলীকদম-চকরিয়া সড়কের লাইনঝিরি এলাকায় কংক্রিটবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার ঘটনা ঘটিয়াছে। একই দিনে একই সড়কে পরপর দুইটি দুর্ঘটনার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়াছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি ও আঁকাবাঁকা এই সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াইয়া দেয়। পাশাপাশি যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকদের অসতর্কতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকসমূহে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পাইতেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আলীকদম-চকরিয়া সড়কটি পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। ফলে সড়কটিতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত যানবাহন পরীক্ষা, চালকদের সতর্কতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহ চিহ্নিত করিয়া প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
একই সড়কে একই দিনে পরপর দুইটি দুর্ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করিয়া যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করিয়াছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply