
এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
নওগাঁর নিয়ামতপুরে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. বকুল ইসলামকে (২৫) ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫, সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার দারুস সালাম থানাধীন গাইদারটেক এলাকায় বকুল ইসলামের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বকুল নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। র্যাব-৫ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী তার নানির সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করত। তার মা সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করেন। গত ১ জুন কিশোরী ঢাকার দারুস সালাম থানাধীন গাবতলীর আয়েশা সুপার মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় একটি গার্মেন্টস গ্যালারিতে হেলপার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই গার্মেন্টসের সুপারভাইজার বকুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি কিশোরী তার নানিকে জানালে তিনি গার্মেন্টসে গিয়ে বকুলকে এ ধরনের প্রস্তাব না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এরপরও বকুল বিভিন্নভাবে কিশোরীকে বিরক্ত করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ বেতন দিয়ে ছুটি দেওয়ার পর বকুল গাবতলীর আয়েশা সুপার মার্কেটের সামনে থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে কৌশলে অপহরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বাসযোগে তাকে নওগাঁর নিয়ামতপুরে নিজের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের সহায়তায় তাকে আটকে রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ২৯ জুলাই ভোর ৫টার দিকে কিশোরী কৌশলে আসামিদের বাড়ি থেকে বের হয়ে বাসযোগে ঢাকায় তার নানির বাড়িতে ফিরে আসে। সেখানে গিয়ে সে পুরো ঘটনা তার নানিকে জানায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নানির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ঢাকার দারুস সালাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২০)-এর ৭/৩০/৯(১) ধারায় রুজু করা হয়েছে। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার বকুল ইসলামকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
Leave a Reply