
মিঠুন কুমার মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের প্রবীণ বিএনপি নেতা মতিয়ার রহমান মোল্লা। সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও তিনি সক্রিয় রয়েছেন রাজনীতির মাঠে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, মামলা, জেল, আত্মগোপন এবং পারিবারিক সংকটের মুখোমুখি হলেও দল ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। তাঁর কাছে রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং মানুষের পাশে থাকা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং আদর্শকে ধারণ করাই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য।
১৯৬৫ সালে ছাত্রজীবনে মওলানা ভাসানীর ন্যাপের ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির মধ্য দিয়ে মতিয়ার রহমান মোল্লার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। তরুণ বয়সেই তিনি রাজনীতির নানা বাঁক ও আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তাঁকে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়। রাজনৈতিক জীবনের সেই কঠিন সময়েও তিনি নিজের বিশ্বাস ও আদর্শকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় নানা অভিজ্ঞতার পর ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে দলটির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, জেলা বিএনপির সাবেক কৃষিবিষয়ক সম্পাদক এবং কাজিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে বলে জানান তিনি।
মতিয়ার রহমান মোল্লার রাজনৈতিক দর্শনে পদ-পদবির চেয়ে দল, আদর্শ, ত্যাগ এবং মানুষের পাশে থাকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রাজনীতিতে পদ পাওয়া বা না পাওয়া বড় বিষয় নয়; দলের কঠিন সময়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকাই একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রকৃত পরিচয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সেই বিশ্বাস থেকেই কাজ করে এসেছেন বলে দাবি করেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি পড়ার ও বোঝার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, রাজনৈতিক কর্মীদের শুধু দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিলেই হবে না, দলের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করে তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কাজিপুর ইউনিয়ন থেকে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রবীণ এই নেতা। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কারণে কাজিপুর ইউনিয়নে তাঁর শক্ত সমর্থন রয়েছে। দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিও নিজের আনুগত্যের কথা জানান মতিয়ার রহমান মোল্লা । তাঁর বক্তব্য, দল যাকে যোগ্য মনে করবে, তার পক্ষেই নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত। ব্যক্তি নয়, দলের স্বার্থই সবার আগে—এমন রাজনৈতিক চেতনাই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধারণ করে আসছেন বলে জানান।
সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা মতিয়ার রহমানের জীবনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের নানা অধ্যায়।
মামলা, জেল, আত্মগোপন কিংবা পারিবারিক সংকট—কোনো কিছুই তাঁকে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও দলীয় আদর্শের প্রতি তাঁর আস্থা অটুট রয়েছে বলে তিনি জানান।
তাঁর কাছে রাজনীতি ক্ষমতার সিঁড়ি নয়; বরং আদর্শ, ত্যাগ, মানুষের ভালোবাসা এবং দলের প্রতি আমৃত্যু দায়বদ্ধতার নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে পদ-পদবি কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মতিয়ার রহমান মোল্লার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন তাই শুধু একজন প্রবীণ নেতার রাজনৈতিক পরিচয় নয়; বরং তৃণমূল রাজনীতিতে টিকে থাকা, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা এবং নিজের বিশ্বাস ও আদর্শকে আঁকড়ে ধরে পথচলার এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply