1. stbanglatv@stbanglatv.com : stbanglatv : stbanglatv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ রাজারহাট শিক্ষক সংকটে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী - Stbanglatv.com
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন

সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ রাজারহাট শিক্ষক সংকটে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ Time View

 

মোঃ হামিদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজে তীব্র শিক্ষকসংকটে ধুঁকছে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন। পদে ৬০ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৮ জন, অর্থাৎ শূন্য রয়েছে ৩২টি পদ। এর মধ্যে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নেই কোনো প্রয়োজনীয় শিক্ষক। দীর্ঘদিনের জনবলঘাটতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও নানা আর্থিক সংকটে থাকা এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৫৩ বছর পর স্থায়ী অধ্যক্ষ হিসেবে প্রফেসর মো. জহুরুল হক যোগদানের পর শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক, একাডেমিক ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২২তম বিসিএস ক্যাডার প্রফেসর মো. জহুরুল হক গত ৮ জুন ২০২৬ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর কলেজের ৩৩টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ১৬টিতে অর্থ পেলেও কয়েকটিতে কোনো টাকাই পাননি, এমনকি একটি চলতি হিসাবে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা।

 

অতিথি শিক্ষক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের দুই মাসের বেতন বকেয়া থাকায় তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা পরিশোধ করেন। শিক্ষকসংকট কাটাতে তিনি ১২ জন নতুন অতিথি শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, যেখানে বর্তমানে তিনজন অতিথি শিক্ষক কাজ করছেন।

 

প্রভাষক সাহেব আলী জানান, পদসংখ্যা ৬০টি হলেও কর্মরত আছেন ২৮ জন এবং শূন্য ৩২টি পদ। গ্রন্থাগারিক, শরীরচর্চা শিক্ষক ও প্রদর্শক পদেও জনবলসংকট রয়েছে এবং ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

 

প্রভাষক তপতি রানী বলেন, “শিক্ষকঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বিজ্ঞান বিভাগের ওপর। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ও ব্যবহারিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে ছিল ব্যবহারিক কক্ষটি। ফলে আসন থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী ভর্তি কমে যাচ্ছে, যা ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।”

 

দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিরাতুন বিনতে বুশরা বলেন, “বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েও শিক্ষকসংকটের কারণে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু এখানেও ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শঙ্কিত।”

 

প্রভাষক মিনারা বেগম জানান, নতুন অধ্যক্ষের যোগদানের পর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষককে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি ওই শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও অনুপস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন।

 

প্রভাষক সংগীতা রানী বলেন, “কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরেছে। রেজিস্টার, ক্যাশবই ও চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।”

 

প্রভাষক ফাতেমা বেগম জানান, অধ্যক্ষ স্যার আসার পর অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে ফ্যান সংযোজন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ল্যাব সংস্কার, সীমানাপ্রাচীর ও ছাত্রীদের বাথরুম মেরামতসহ পুরানো ভবনের নানা অংশ সংস্কার করা হচ্ছে।

 

অতিথি শিক্ষক চৌধুরী রিংকু র‍্যাবেন বলেন, “অধ্যক্ষ স্যার যোগদানের সময় আমাদের এবং মাস্টাররোল কর্মচারীদের দুই মাসের বেতন বকেয়া ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে।”

 

সহকারী অধ্যাপক সাজেদুর রহমান মণ্ডল বলেন, “দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে সবার মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরেছে এবং সবাই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন।”

 

কলেজের কর্মচারী নিতাই চন্দ্র রায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এখন আর কলেজ ফাঁকি দেওয়া যায় না। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। মনে হয়, প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাবিবুল্লাহ স্যার মারা যাননি, তিনি আবার কলেজে ফিরে এসেছেন।”

 

তার এ মন্তব্যে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মীর মুহঃ হাবিবুল্লাহর সময়কার শৃঙ্খলা ও কর্মনিষ্ঠার স্মৃতিই যেন উঠে এসেছে।

 

১৯৭৩ সালে মীর মুহঃ হাবিবুল্লাহর মাধ্যমে কলেজের যাত্রা শুরু হয়। ২০০০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে চলার পর ২০১৮ সালে কলেজটি সরকারি করা হয়। তবে স্থায়ী অধ্যক্ষের অভাবে সমস্যাগুলো থেকে যায়। বর্তমানে এখানে একাদশ, দ্বাদশ, স্নাতক ও ছয়টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।

 

অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহুরুল হক বলেন, “কলেজে নানা সমস্যা রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতিথি শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চলছে। শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় সুশীল সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হলেও ৬০টি পদের বিপরীতে ৩২টি পদ শূন্য থাকা মূল চ্যালেঞ্জ। দ্রুত শিক্ষক সংকট সমাধান করা গেলে রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ ও ফলাফল ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2023

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি