
মনির খান, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভায় কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ, কারণ দর্শানোর সুযোগ বা বক্তব্য গ্রহণ ছাড়াই চুক্তিভিত্তিক চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিকদার ওসমান গনি। এ ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিকদার ওসমান গনি বলেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে লোহাগড়া পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহা স্বাক্ষরিত একটি অব্যাহতি পত্র ডাকযোগে তাঁর কাছে পৌঁছায়। চিঠিতে উল্লেখ করা কারণগুলোর সঙ্গে তাঁর বাস্তব দায়িত্ব পালন ও কর্মপরিস্থিতির মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
ওসমান গনি বলেন, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত হয়ে হাজিরা দিয়েছেন এবং অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। তাঁর কাজে কোনো সমস্যা থাকলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে সতর্ক বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারতেন। কিন্তু তাঁকে কোনো ধরনের নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, পৌরসভার ১০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর মধ্যে ছয়জনের বেতন বৃদ্ধি করা হলেও চারজনের বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। তাঁদের মধ্যে তিনি একজন। বেতন বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণ হিসেবে নিয়মিত অফিস ও দায়িত্ব পালনে ঘাটতির কথা বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, একই কারণে অন্যদের চাকরিচ্যুত না করে শুধু তাঁকেই কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো।
চাকরিচ্যুতির পেছনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে ওসমান গনি বলেন, কম্পিউটার কাজে দক্ষ হওয়ায় পূর্ববর্তী মেয়রদের সময়ে পত্র জারির মাধ্যমে তিনি পৌরসভার প্রকৌশল শাখায় কাজ করার সুযোগ পান। সেখানে দায়িত্ব পালনের সময় কার্যসহকারী মো. কবির হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে বিল-ভাউচার তৈরি ও ফাইল প্রস্তুতের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
ওসমান গনি আরও বলেন, পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালন, পদায়ন, আর্থিক লেনদেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল-ভাউচার ও নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। কার্যসহকারী মো. কবির হোসেনের বিরুদ্ধেও নকশা অনুমোদন, ভবন নির্মাণ, মাটি পরীক্ষা এবং সরকারি ফি-এর বাইরে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা তাঁর উদ্দেশ্য নয় উল্লেখ করে শিকদার ওসমান গনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে তাঁর চাকরিচ্যুতির বিষয়ে পৌরসভার সভার কার্যবিবরণী, রেজুলেশন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি কারও ব্যক্তিগত ক্ষতি চাই না। আমি শুধু আমার ন্যায্য অধিকার চাই।’ তাঁর অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঘটনা গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রয়োজনে আইনগত ও প্রশাসনিক সব বৈধ পথে যাওয়ার কথাও জানান শিকদার ওসমান গনি।
Leave a Reply