
মনির খান নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।
জুলাই আন্দোলনে মিরপুর ১০ নম্বর ফ্লাইওভারের ওপর দাঁড়িয়ে উড়ানো সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলো গুলিবিদ্ধ বাঙলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা আজিজুর শেখ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টায় সচিবালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাতে জুলাইয়ের সেই রক্তমাখা পতাকা তুলে দেয় গুলিবিদ্ধ আজিজুর শেখ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়ায় তাকে নিয়ে সংবাদ প্রচার হলে বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাক্ষাৎ এর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ৪ আগস্ট মিরপুর ১০ নম্বর ভয়াবহ অবস্থা ছিল। জুলাইয়ের উত্তপ্ত আন্দোলনে মিরপুর ১০ ফ্লাই অভারের উপরে উঠে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছিলেন বাঙলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আজিজুল শেখ।
মোঃ আজিজুর শেখ সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। আজিজুর নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ৪নং নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের দেবী গ্রামের মোঃ রাজু শেখের ছেলে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেরিয়ে আজিজুর শেখের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার নাম ধরে ডেকে কাছে নিয়েছেন৷ এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার শারীরিক, পড়াশোনা, ব্যক্তিগত এবং পরিবারের খোঁজ নেন।
তিনি আরও বলেন, জুলায়ের সেই রক্তমাখা পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে পেরে আজ আমি নিজেকে সবথেকে বড় ভাগ্যবান মনে করছি। এ সময় তিনি উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেন ইচ্ছা থাকলে সব কিছুই সম্ভব। আজ তার বড় উদাহরণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে রক্তমাখা পতাকা তুলে দেওয়ার জন্য আমি প্রায় দুই বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এজন্য প্রথমে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। যারা আমাকে নিয়ে নিউজ প্রকাশ করেছেন আমি সেই মিডিয়ার ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যাদের প্রচেষ্টায় আমি আজ প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেয়েছি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা সব সময় আমার পাশে থেকে উৎস, প্রেরণা দিয়েছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলনের সময় তার মাথায়, বুকে, পিঠে, কপালেসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ৩৬টি বুলেট লাগে। ১৯ জুলাই সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় এবং দুদিন রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই ছাড়া পায়। তবে আন্দোলনের পর জুলাই যোদ্ধার তালিকায় নাম না থাকা অথবা আলোচনায় না থাকা নিয়েও তার কোন আক্ষেপ নেই বলেও জানান তিনি।
গায়ে পড়ে আছে কলেজের টি-শার্ট হাতে ধরে আছে জীবনের স্টাডিং স্বপ্নটা এখনো কলেজের ক্লাস রুম কিন্তু সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ঢাকার রাস্তায় সিএনজি চালাচ্ছেন সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী সৎ ভাবে উপার্জন করে নিজের শিক্ষা জীবন চালিয়ে যাওয়া কে সবছে বড় পরিচয় মনে করেন নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করা ছাত্রদল নেতা আজিজুর শেখ।
আজিজুর জানান এই পথ চলা সব সময় সহজ ছিলো না সিএনজি চালানোর কারণে বন্ধু কিংবা পরিচিত দের নানান প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে কিন্তু এই সব সমলোচনা কে গুরুত্বপূর্ণ না দিয়ে নিজের লক্ষ্য এগিয়ে চলেছেন তিনি পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই কর্ম জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান বলেই চাকরি অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজের আইয়ের পথ তৈরি করেছেন
এর আগে আগারগাঁও এলাকায় ফুটপাতে ছোট একটি ব্যাবসা করেছিলেন এই শিক্ষার্থী কিন্তু স্থানীয় চাঁদাবাজদের কারণে সেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ তার। আজিজুর দাবি করেন রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার পরও দোকান রক্ষা করতে পারেননি শেষ পর্যন্ত ব্যবসা ছেড়ে জীবীকার নতুন পথ হিসেবে সিএনজি চালানো শুরু করেন।
পড়াশোনা পাশাপাশি সরকারি বাঙলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী এক সাথে এগিয়ে নিতে চান উপার্জন তার ভাষায় পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
Leave a Reply