
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সরই ইউনিয়ন। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাসুবিধা ও অর্থনৈতিক দৈন্য সবকিছু মিলিয়ে যেখানে উচ্চশিক্ষা এখনো বহু স্বপ্নের অতীত। সেই প্রত্যন্ত জনপদ থেকেই চলতি ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছে চারজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থী। সীমাহীন সংগ্রাম আর অদম্য প্রত্যয়ের মাধ্যমে তারা পৌঁছে গেছে দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির দ্বারপ্রান্তে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন উছাইহ্লা মার্মা। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে নির্বাচিত হয়েছেন ধনলাল ত্রিপুরা। রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন মং থুইনু মার্মা এবং মাগুরা মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন অংক্যসিং মার্মা। চারজনই লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সন্তান।
মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিক্ষার্থী উছাইহ্লা মার্মা বলেন, “কোয়ান্টামে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আমার মনে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন জন্ম নেয়। কোয়ান্টামের সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা ও শিক্ষাদানের কারণেই আজ আমি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ অতিক্রম করতে পেরেছি। অন্যথায় আমাকেও হয়তো মা, বাবার মতো জুম চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করতে হতো।”
চার শিক্ষার্থীর এই সাফল্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ বলেন, “সুশৃঙ্খল পরিবেশ, মানসম্মত পাঠদান, মেডিটেশন, কোয়ান্টাম ব্যায়াম, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং সহপাঠ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা এখানে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে। এই চার শিক্ষার্থীর সাফল্য তারই প্রমাণ।”
পাহাড়ের নির্জন জনপদ থেকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপথে এগিয়ে চলা এই চার তরুণ-তরুণীর অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি তাদের পরিবার, সমাজ এবং সমগ্র জাতির জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সীমাবদ্ধতা আর প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শিক্ষার আলো যে দুর্গম পাহাড়েও পৌঁছাতে পারে, এই চার শিক্ষার্থীর সাফল্য সে কথাই নতুন করে প্রমাণ করল।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply