
জাকিয়া বেগম, বিশেষ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিররামপুর গ্রামে জেওসি (বিডি) গার্মেন্টস কোঃ লিঃ বিশাল পরিসরে অবস্থিত এটি। ত্রিশাল উপজেলাসহ আশপাশের প্রায় ৮০০ শত নাগরিককে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে মানুষের হৃদয়ে শতভাগ জায়গায় করে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি এবং আশেপাশের দোকান-পাট, হাট বাজার, বাসা বাড়ি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটেছে। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে পোশাক শিল্পের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি রপ্তানিমুখী খাতে পোশাক শিল্পই অন্যতম। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের উপর নির্ভরশীল। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো শিল্পনির্ভর। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এখানে শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। আর এক্ষেত্রে গার্মেন্টস শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। গোটা বিশ্বে পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে।
কোম্পানির ব্যবস্থাপক-এইচআর এডমিন এবং কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান মোঃ শাহরিয়ার সৌরভ গণমাধ্যম কে বলেন, ২০২৪ সালে এই গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করা হয়। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিতে আরো শ্রমিক বাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করতে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়নি। প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসা সেবা, জেনারেটর, ফার্য়ার সার্ভিস ব্যবস্থা,স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, শ্রমিকদের সকল সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। ত্রিশাল উপজেলা সহ আশপাশের উপজেলার জনগণের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে প্রশংসা কুড়িয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকদের প্রতিভা বিকাশের জন্য তাদের সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন প্রোগ্রামে শ্রমিকদের বিভিন্ন কৃতিত্বপূর্ণ কাজ, খেলাধূলার ট্রফি, ডিসিপ্লিন ও সততার জন্য স্বীকৃতিস্বরুপ বিভিন্ন সনদ ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সচেতনহল ও প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকগণ বলেন, জেওসি (বিডি) গার্মেন্টস কোঃ লিঃ এ দেশের তৈরি পোশাকশিল্প রপ্তানি বাণিজ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বেকার সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান উৎসাহজনক। যা আমাদের গর্বের বিষয়। সেই সাথে তারা সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করতে পারছে। এ ছাড়াও তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকের জীবনযাত্রার লক্ষণীয় পরিবর্তন সাধন করেছে এবং তারা অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। শ্রমজীবী নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন পরিবারে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন আনয়নে সক্ষম হয়েছে, আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের কারণে এসব নারী শ্রমিকের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। যে নারীর জীবন ছিল মূল্যহীন, গার্মেন্টস শিল্প তাদের বেঁচে থাকার পথে আশার সঞ্চার করে চলেছে। চাকরির সুবিধাদি ভোগকারী বাবা, ভাই এবং স্বামীর ঐতিহ্যগত পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে পরিবর্তন সাধন করেছে। অধিকাংশ শ্রমজীবী নারী এখন বিয়ে এবং সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্তের কথা বলতে পারে। তারা পরিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও অংশগ্রহণ করতে পারছে। সমাজে বাল্যবিবাহের সংখ্যা কমেছে, সেই সাথে হ্রাস পেয়েছে জন্মহার। শ্রমজীবী মেয়েরা তাদের ছোট ছোট ভাইবোনদের যত্ন নিচ্ছে এবং স্কুলে পাঠাচ্ছে। ফলে দেশে স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply