
মোঃ সবুজ সরদার লোহাগড়া নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের ইসলাম শেখ হত্যার ঘটনা স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তবে একটি হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিশোধের নামে আরও মানুষকে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি নিরীহ মানুষের বাড়িঘরও এসব ঘটনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ থেকে বাদ যায়নি অন্ধ এক ভিক্ষুকের বাড়িও। জীবনের শেষ সম্বল বলতে যে সামান্য ঘর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল, সেখানেও ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অসহায় মানুষের ঘরেও যখন নিরাপত্তা থাকে না, তখন পুরো এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় গভীর আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা।
সর্বশেষ জানা গেছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) একটি বাড়িতে ভাঙচুর করে ঘরে থাকা আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম শেখ হত্যাকাণ্ডের বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, ভয়ভীতি সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, লুটপাট কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে থাকে, তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অপরাধকে ‘পুঁজি’ করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করার সুযোগ না পায়—এমন প্রত্যাশাই এলাকাবাসীর।
একটি হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে যদি নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, তাহলে সেটিও কোনোভাবেই ছোট অপরাধ নয়। হত্যার বিচার যেমন জরুরি, তেমনি পরবর্তী সময়ে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধেরও নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
লোহাগড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—ইসলাম শেখ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পর ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িতদেরও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হলে তাহলেই আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের মনে ফিরতে পারে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও আইনের প্রতি আস্থা।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply