
শেখ সাদী সুমন জেলা প্রতি নিধী ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ৩৪তম কমিশনার হিসেবে সততা, মেধা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সুযোগ্য সন্তান মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির (পিপিএম-সেবা)।
১৯৭৪ সালে কসবার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এই কর্মকর্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। ২০০১ সালে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে তাঁর গৌরবময় কর্মজীবন শুরু হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সাহসিকতা ও বিশেষ সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’ (পিপিএম-সেবা)-এ ভূষিত করেছে।
গত ৭ মে আরএমপি কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই রাজশাহীতে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর কঠোর দিকনির্দেশনায় গত চার মাসে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা, মতিহার, বেলপুকুর ও শাহমখদুমসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন শতাধিক মাদক কারবারি। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা।
ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও শান্তি সুনিশ্চিত করতে স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স এবং বিভিন্ন বাজার সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ফলে সাহেব বাজার, লক্ষ্মীপুর ও আরডিএ মার্কেটসহ পুরো নগরীতে চাঁদাবাজি ও হয়রানি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
অপরাধ দমনের পাশাপাশি পুলিশ ফোর্সের কল্যাণেও নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছেন কমিশনার। পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ, খেলাধুলার ব্যবস্থা এবং অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের সম্মাননা জানিয়ে বিদায় দেওয়ার মানবিক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন তিনি। এছাড়া কিশোর অপরাধ দমনে প্রতিটি থানায় বিশেষ ইউনিট সক্রিয় করা, শারদীয় দুর্গাপূজায় সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রদান এবং শিশু সুরক্ষায় পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নগরবাসীর আস্থা অর্জন করেছেন।
তিতাস পাড়ের এই মেধাবী ও দূরদর্শী কর্মকর্তার নেতৃত্বে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ এখন দেশের মধ্যে একটি মডেল পুলিশে পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজশাহীর সুশীল সমাজ ও সাধারণ নগরবাসী।
© All rights reserved © 2026
Leave a Reply