
স্টাফ রিপোর্টার: হুমায়ুন রশিদ জুয়েল
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল সদর ইউনিয়নের সাররং গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সাররং সমাজভিত্তিক প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক পাঠদান চালিয়ে গেলেও গত ১৫ বছর ধরে তারা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।
এলাকার নিরক্ষরতা দূর করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া কাঞ্চন নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জমি, অবকাঠামো, পাঁচজন শিক্ষক ও দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু সরকারি স্বীকৃতি ও জাতীয়করণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় আশপাশের শিশুদের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এখানে নেই শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি ও টিফিনসহ বিভিন্ন সুবিধা পেলেও এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন। তারপরও আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যালয় পরিচালনা ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, “অতীতে সরকার এ ধরনের বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। এটি কেন করা হলো না, সে জন্য আমারও দুঃখ হয়। বর্তমানে নতুন করে জাতীয়করণের সুযোগ না থাকলেও পরবর্তী সময়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলে এটি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply