
আব্বাস উদ্দিন:জেলা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নে সরাকান্দি খাল ও সীমানা খাল স্বেচ্ছাশ্রমে ব্যক্তি উদ্যোগে খননের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। খাল খননের অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা খালের পরিবর্তে পাশ্ববর্তী চেত্রা নদী এবং পানির নিচে থাকা ফসলি জমিতে খননকাজ চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, সড়াকান্দি খাল ও সীমানা খাল দুটি খননের অনুমোদন পান অরুয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক এবং অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। জনস্বার্থে নিয়মনীতি অনুসরণ করে খাল খননের প্রত্যাশায় তিন দিন আগে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে খননকাজের উদ্বোধন করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের পর খালের পরিবর্তে চেত্রা নদীতে খননকাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানান।
অভিযোগের বিষয়ে খননকাজের দায়িত্বশীলরা দাবি করেছেন, তাঁরা নদী নয়, সরাকান্দি খালই খনন করছেন।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে সড়াকান্দি খালের ওপর প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট পানি রয়েছে এবং অনেক স্থানে খালের দৃশ্যমান চিহ্নও নেই। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে খালের অবস্থান নির্ধারণ করে খননকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অধিক লাভের আশায় পানির নিচে থাকা ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী খাল খননের নামে ব্যক্তি স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply