
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক মো. তারিকুল ইসলাম তারেক পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) হিসেবে কর্মরত। তবে তিনি নিয়মিতভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ীর বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে পানছড়ি হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ সেবা, বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনসহ জরুরি অস্ত্রোপচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তার অনুপস্থিতির কারণে গাইনি বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সিজারিয়ান সেবা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেননি। মাঝে মাঝে উপস্থিত থাকলেও অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন। এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে টাঙ্গাইলের একাধিক ক্লিনিকের ব্যবস্থাপকেরা জানান, তিনি নিয়মিতভাবে অপারেশনের সময় অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে কাজ করেন এবং একাধিক স্থানে তার উপস্থিতি দেখা যায়।
এ বিষয়ে চিকিৎসক তারিকুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেন, তবে দূরত্বের কারণে মাঝে মাঝে অনুপস্থিত থাকতে হয়। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত ও সামাজিক কাজের কারণেও টাঙ্গাইলে অবস্থান করতে হয় বলে জানান।
পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, তিনি মাসে মাত্র কয়েক দিন কর্মস্থলে থাকেন এবং বারবার অনুপস্থিতির কারণে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে তার বেতন বন্ধসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন চিকিৎসকের এমন অনিয়মের কারণে সরকারি হাসপাতালে সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply