
মোঃজহির খান,জেলা প্রতিনিধিঃ ফেনী
ফেনী জেলার ভোজ্যতেলের বাজারে চলমান কৃত্রিম সংকট এবং অনুমোদনবিহীন লেভেলিং-এর বিরুদ্ধে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। এ অভিযান র্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অভিযানকালে ফেনী সদর থানাধীন মধ্যরামপুর তাকিয়া রোডস্থ ‘কবির এন্ড সন্স’ নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ৫০ হাজার লিটার ভোজ্যতেল অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে ধরা পড়ে। অভিযানের সময় মোবাইল কোট পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা বিধি মোতাবেক সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
র্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ফেনী জেলার মধ্যরামপুর এলাকায় কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অসাধুভাবে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। এমন ধরণের অবৈধ মজুদ বাজারে সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং সকাল ১১:০০ ঘটিকা থেকে দুপুর ২:০০ ঘটিকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির গোডাউনে ভোজ্যতেলের বিশাল মজুদ ধরা পড়ে। র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরণের অবৈধ মজুদ সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য করছে এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত করছে।
অভিযান শেষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার লিটার ভোজ্যতেল অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকরভাবে আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়।
র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, “ভোজ্যতেলের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট এবং অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে র্যাব কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জনগণের নিরাপত্তা, খাদ্য সরবরাহ এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাব।”
এই অভিযান শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করাই নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় বাজারের সকল ব্যবসায়ীর কাছে যে, আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা র্যাব-৭, চট্টগ্রামের এই ধরনের অভিযানগুলোর মূল উদ্দেশ্য।
ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুদ ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বাজার থেকে সঠিক মূল্যে পণ্য পাবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে।
র্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানিয়েছে যে, ফেনী জেলার পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যান্য জেলা ও উপজেলার বাজারেও নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। খাদ্যপণ্য, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যের অবৈধ মজুদ ও মূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই ধরনের কার্যক্রম সাধারণ জনগণকে সুরক্ষা দেয় এবং সমাজে ন্যায় ও স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ভোক্তা অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফেনী জেলার মধ্যরামপুরে এই অভিযান একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যে, অবৈধ ব্যবসা ও মজুদ প্রতিরোধে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। র্যাব-৭, চট্টগ্রামের উদ্যোগে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযান জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায্য বাজার এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply