
বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ জহির খান
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পুলিশের চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৪০০ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে শাড়ি পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পুরাতন নীল রঙের মিনি পিকআপ ভ্যানও জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লাঙ্গলমোড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, চোরাচালান প্রতিরোধ ও পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত রাত্রীকালীন ডিউটির অংশ হিসেবে ঘোপাল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিট থেকে লাঙ্গলমোড়া এলাকায় জনৈক শামসু মিয়ার বাড়ির সামনে পাকা সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে দায়িত্ব পালন করছিল। ভোর আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে একটি নীল রঙের মিনি পিকআপ সেখানে এলে পুলিশ থামার সংকেত দেয়।
পুলিশের দাবি, গাড়িটি থামার পর চালকসহ তিনজন ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জয়নাল হোসেন জুনায়েদ (৩০), সাজ্জাদ হোসেন অভি (২০) ও মাইনউদ্দিন মাছুম (২৬) বলে পরিচয় দেন।
পরে আটক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এবং স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে মিনি পিকআপটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়ির ভেতরে চটের বস্তায় রাখা ভারতীয় বিভিন্ন রং, ব্র্যান্ড, ডিজাইন ও ধরনের শাড়ি পাওয়া যায়। গণনা করে ৩৫টি বস্তায় প্রতিটি বস্তিতে ৪০ পিস করে মোট ১ হাজার ৪০০ পিস শাড়ি পাওয়া যায়।
পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি শাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ২ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে উদ্ধারকৃত শাড়ির মোট মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া ফেনী-ড-১১-০৮৩৮ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের পুরাতন নীল রঙের মিনি পিকআপ ভ্যানটির আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, উদ্ধারকৃত ভারতীয় শাড়ির বৈধ আমদানি সংক্রান্ত Bill of Entry, আমদানি দলিল, শুল্ক-কর পরিশোধের প্রমাণপত্র বা অন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র আটক ব্যক্তিরা দেখাতে পারেননি।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, ভারতীয় শাড়িগুলো সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনী নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে লাঙ্গলমোড়া ঘাটে অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের মাধ্যমে শাড়িগুলো মিনি পিকআপে বোঝাই করে চট্টগ্রামের দিকে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক জয়নাল হোসেন জুনায়েদ মিনি পিকআপটি চালাচ্ছিলেন এবং সাজ্জাদ হোসেন অভি ও মাইনউদ্দিন মাছুম তার সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে এনে পরিবহন ও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরে ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ১ হাজার ৪০০ পিস ভারতীয় শাড়ি ও মিনি পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করে পুলিশ। এ সময় জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে এসআই (নিঃ) মো. ইয়াছিন মিয়াজী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে আটক তিনজনসহ তদন্তে শনাক্তব্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে Special Powers Act, 1974-এর ২৫(বি) ধারায় মামলা রুজুর আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা চোরাচালান চক্রের সদস্যদের শনাক্ত, পণ্যের প্রকৃত উৎস, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের স্থান ও পদ্ধতি, লাঙ্গলমোড়া ঘাটে পণ্য খালাস ও গাড়িতে বোঝাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এবং পণ্যের প্রকৃত মালিক বা মূলহোতাদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিনি পিকআপটির মালিকানা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্যও যাচাই করা হবে।
তবে উদ্ধারকৃত পণ্যের প্রকৃত উৎস, মালিকানা এবং চোরাচালানের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply