1. stbanglatv@stbanglatv.com : stbanglatv : stbanglatv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
তিস্তার পানি ৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপরে বন্যায় ঝুঁকিতে লাখো মানুষ - Stbanglatv.com
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

তিস্তার পানি ৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপরে বন্যায় ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ Time View

 

মো:সিরাজুল ইসলাম পলাশ,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি 

টানা ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৪ মিটার। যা বিপদসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দিনের ভারী বৃষ্টি আর উজানের এ ঢলে কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত মাসের শেষ দিকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্প মেয়াদী বন্যার সৃষ্টি হয়। যার একদিন পরে উন্নতি ঘটে। এরপর বুধবার থেকে পানি বাড়া শুরু হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিপদসীমার কাছে চলে আসে এবং চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তি এলাকার নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। চরাঞ্চলের রাস্তা ঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকা আর ভেলা হয়েছে যোগাযোগের মাধ্যম।

 

পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদী তীরবর্তি এলাকার উচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শুস্কমৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে এসবে জরুরি মেরামত দেখি সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে। অথচ শুস্কমৌসুমে বাঁধ মেরামত করলে কাজগুলো যেমন পাকাপোক্ত হবে। তেমনি নদী ভাঙন আর বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেত।

 

গোবর্দ্ধন গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। ইতমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে। পানি চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষরা আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই। চারদিকে পানি আর পানি।

 

নদীপাড়ের শৈলমারী চরের আব্দুল গফ্ফর বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে। তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি এলাকায় শিশু বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধিদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এ সবের মাঝেও থাকে সাপ-পোকার প্রাদুর্ভাব। বন্যা যতদিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পানি বেড়েছে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে। এ কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। তাই স্বল্প মেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকদের সতর্কতার সাথে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2023

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি