
মো. শাহীন আলম গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নূতন দুলাল ভরট দ্বি-মুখী বিদ্যালয়ে চাঁদা না দেওয়ায় এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া এক সহকারী শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহফুজুল ইসলামের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একই বিদ্যালয়ের সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক মো. জাহেদুল ইসলাম দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা না দিলে তাকে বিদ্যালয়ে চাকরি করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালে মো. জাহেদুল ইসলাম বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পুনরায় দুই লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহেদুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ছামছুল হক এবং দপ্তরি আব্দুল খালেক তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্যান্য শিক্ষক এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যালয়ের ভেতরে একজন শিক্ষক নিরাপদ না থাকলে শিক্ষার্থীরাও নিরাপদ নয়। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ঘটনার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার দিন পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালে আবারও চাঁদা দাবি করা হলে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে মারধর করা হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. জাহেনুর বেগম বলেন, ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা রাজি হয়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার দাবি জানান।
এদিকে, অভিযোগে অভিযুক্ত সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক মো. জাহেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply