
নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পল্লী বিদ্যুতের চরম লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ঘণ্টাও অনেক সময় বিদ্যুৎ মিলছে না।
এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে তাদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। একইসঙ্গে পোল্ট্রি খাতও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সেবা নিতে আসা মানুষদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিদ্যুতের অভাবে।
উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের গড়মাছুয়া গ্রামের পোল্ট্রি খামারি আসমাউল জানান, “এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে তিন-চার ঘণ্টা থাকে না। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হয়। আবার পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়াও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
অন্যদিকে, এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় তার প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সোহেল রানা জানান, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকা ছাড়াও পাকুন্দিয়া ও নান্দাইল উপজেলার কিছু অংশে মোট প্রায় ৫৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। সেখানে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পিক আওয়ারে মাত্র ৪-৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply