
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় খরার প্রভাবে বোরো ধানসহ বিভিন্ন আবাদি জমিতে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ফসল রক্ষায় গ্যাসোলিন (পেট্রোল) চালিত সেচ পাম্প ব্যবহার করতে গিয়ে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে উপজেলার সোনারায়, তারাপুর, বেলকা, দহবন্দ ও রামজীবন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা সেচ পাম্প ও জ্বালানির পাত্র নিয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কৃষক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারেননি। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে ফসল নষ্টের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বেলকা ইউনিয়নের কৃষক শামীম মিয়া বলেন, বোরো ধানের এ সময়টায় নিয়মিত পানি না দিলে ফসল শুকিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। একই অভিযোগ জানান তারাপুর ইউনিয়নের কৃষক স্বাধীন বসুনিয়া। তিনি বলেন, দৈনিক প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা ধরে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল কবির বলেন, বোরো ধান সেচনির্ভর ফসল হওয়ায় এ সময়ে পানি সরবরাহ ব্যাহত হলে উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি জানান, কৃষকদের স্বার্থে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কালোবাজারি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আলাদা ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর দাবি জানিয়েছেন।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply