
মোহাম্মদ করিম লামা- আলীকদম প্রতিনিধি
‘দৃষ্টি হউক সবার অধিকার, অন্ধত্বমুক্ত হউক সমাজ’ এই প্রত্যয়কে সামনে রাখিয়া বান্দরবানের লামায় সাইট এইড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬’ পালিত হইয়াছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লামা উপজেলা পরিষদ চত্বর হইতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বাহির হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করিয়া পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফিরিয়া আসে। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সাইট এইড ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক থুইনুমং মার্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে লামা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এইচ এম আরিফ চৌধুরী বলেন, দৃষ্টি মানবদেহের অন্যতম মূল্যবান নিয়ামত। দৃষ্টিশক্তি হারাইলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হইয়া পড়ে। অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও চক্ষুরোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করিতে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাইয়া দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক মানুষ সময়মতো চক্ষু চিকিৎসা গ্রহণ করিতে পারেন না। ফলে সামান্য সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে অনেকেই দৃষ্টিশক্তি হারাইয়া ফেলেন। এ কারণে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লামা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ করিম এলএলবি, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খন্দকার, লামা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সাংবাদিক মো. সাহাব উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে লামা সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ সুজন, অ্যাডভোকেট কবির হোসেন শান্ত, বিভিন্ন এলাকার হেডম্যান, কারবারী, সাংবাদিক, সামাজিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ সচেতনতার অভাব, দারিদ্র্য এবং দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে পার্বত্য এলাকার বহু মানুষ প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা হইতে বঞ্চিত হইতেছেন। বিশেষ করিয়া প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তাঁহারা লামাসহ দুর্গম পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষের নিকট সাইট এইড ফাউন্ডেশনের চক্ষু চিকিৎসাসেবা আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছাইয়া দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চক্ষুরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার তাগিদ দেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ, নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হইলে পার্বত্যাঞ্চলে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হইবে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply