
উপজেলা প্রতিনিধি নাসিরনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
মোঃ মাসুম মিয়া( ৬)। পিতা মোঃ জুলহাস মিয়া।অতিশয় দরিদ্র লোক ।পেশায় একজন ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী।বসবাস করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪ নং ঘরে।গত ছয়দিন পূর্বে লক্ষীপুর গ্রামের প্রভাবশালী কৃষক মোঃ নুরুল হক
তাদের বাড়িত কাজ না করে জোর প্রয়োগ করে আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে মাসুমের বাসার বা ঘরের সামনে মাটির চুলা তৈরী করে ধান অগ্নিদগ্ধ ছাইয়ে পানি দিয়ে না নিভিয়ে চলে আসে।
শিশু মাসুম তার বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে না বুঝেই সেই অগ্নিদগ্ধ ছাইয়ে পা রাখার সাথে সাথেই মাসুমের একটি পা ঝলসে যায়।কিন্তু মাসুমের দরিদ্র মা বাবার পক্ষে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়।মাসুমের মা মা মাসুমকে নিয়ে যায় তিলপাড়া এক কবিরাজের কাছে।কবিরাজ মাসুমকে ঝাড় ফুক আর তেলপড়া দিয়ে দ্রুত ভাল হয়ে যাবে বলে বিদায় করে দেন।
মাসুমের পায়ের অবস্থা আরো বেশী খারাপের দিকে চলে গেলে মাসুমের মা তাকে নিয়ে আসেন দৈনিক আমার দেশের নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল হান্নানের কাছে।সাংবাদিক হান্নান শিশু মাসুমের এমন অবস্থা দেখে ভিডিও ধারন করে তাৎক্ষনিক নাসিরনগর হাসপাতালের আর এম ও ডাক্তার মোঃ সাইফুল ইসলামকে ফোনকরে মাসুমের৷ সুচিকিৎসার জন্য তার কাছে পাঠান।
সাংবাদিক আব্দুল হান্নান শিশু মাসুমকে হাসপাতালে পাটিয়ে ধারণ করা ভিডিওটি ওয়ার্সএ্যাপের মাধ্যমে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাসরিনকে পাঠান।ইউএনও ভিডিওটি দেখে সাংবাদিক হান্নানের কাছ থেকে মাসুমের ঠিকানা সংগ্রহ করে যদিও সেদিন শুক্রবার ছিল তবু তিনি বিকেল সাড়ে তিন ঘটিকার সময় মাসুমের খোঁজ খবর নিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে হাজির হন।তিনি সেখানকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য লোকদের জড়ো করেন।
পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে চুলা নির্মানকারীকে খবর দিয়ে এনে চুলা ভেঙ্গে ছাই অপসারন মাসুমের চিকিৎসার জন্য নগদ ৬ হাজার টাকা প্রদান করেন।বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রসাশক মোঃ দিদারুল আলমের দৃষ্টি গোচর হলে শনিবার রাতেই তিনি তার নিজস্ব তহবিল থেকে মাসুমের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ হাজার টাকা প্রেরণ করেন।রবিবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় নাসিরনগর হাসপাতালের আর এম ও ডাক্তার মোঃ সাইফুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের পাঠানো টাকা মাসুমের মায়ের নিকট প্রদান করনে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply