1. stbanglatv@stbanglatv.com : stbanglatv : stbanglatv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
হাতের ভেতর কাচের টুকরা রেখেই সেলাই, এক মাস পর অস্ত্রোপচারে বের করলেন অন্য চিকিৎসক - Stbanglatv.com
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

হাতের ভেতর কাচের টুকরা রেখেই সেলাই, এক মাস পর অস্ত্রোপচারে বের করলেন অন্য চিকিৎসক

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৯ Time View

মোঃ হামিদুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়ার পর ভাঙা কাচের টুকরা ঢুকে যায় সাইদার মিয়ার বাম হাতে। তাঁকে নেওয়া হয়েছিল চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাতের ভেতরে কাচ রেখেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। এক মাসের বেশি সময় যন্ত্রণায় ভোগার পর অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে হাত থেকে কাচের টুকরা বের করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভূমিহীন ও অসহায়। অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক মাসের বেশি সময় আগে দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন সাইদার মিয়া। এ সময় পড়ে গিয়ে ভাঙা কাচে আঘাত পান তিনি। এতে তাঁর বাম হাতে গভীর ক্ষত হয় এবং হাতের ভেতরে কাচের টুকরা ঢুকে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সাইদার মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে ভর্তি করা হয়নি। শয্যা বা জায়গা খালি নেই জানিয়ে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় হাতের ভেতরে কাচের টুকরা রয়ে গেলেও তা বের করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এরপর এক মাসের বেশি সময় ধরে হাতের ব্যথা ও যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটান তিনি। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এক্স-রে করালে হাতের ভেতরে দুটি কাচের টুকরা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে সেগুলো বের করা হয়।

সাইদার মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যাওয়ার পর ঘরের ভেতরে থাকা কাচে হাতে আঘাত পাই। স্থানীয় লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কোনো রকম চিকিৎসা দিয়ে হাতের ভেতরে কাচ রেখেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সুস্থ না হওয়ায় এক মাসের বেশি সময় পর এক্স-রে করালে ভেতরে দুটি কাচের টুকরা দেখা যায়। এরপর অস্ত্রোপচার করে সেগুলো বের করা হয়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, নাকি মানুষকে মেরে ফেলা হয়? কোনো রোগীকে ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। এমন অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।’

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম। তিনি বলেন, সাইদার মিয়া অত্যন্ত গরিব ও অসহায় মানুষ। তাঁকে যখন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও কাচের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, তখন চিকিৎসকেরা মানবিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে তাঁকে এক মাস ধরে এমন কষ্ট ভোগ করতে হতো না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য সরি। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2026

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি