
আব্দুর রউফ ভুঁইয়া: জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় এক পুলিশ কনস্টেবলের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদার দাবিকৃত টাকা না দেওয়া পুলিশের জমিতে অস্থায়ী ঘর তুলে মাদকদ্রব্য বিক্রির প্রতিবাদ করায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার গাইটাল নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ইব্রাহিমের ছেলে জুলফিকার আহমদ নাঈম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাকরিসূত্রে নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে এসে সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে গাইটাল নয়াপাড়ায় জমি কিনে প্রায় ২০ বছর ধরে বসবাস করছেন পুলিশ কনস্টেবল মো. ইব্রাহিম। বাড়ি নির্মাণের শুরু থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
সম্প্রতি গত ১৪ জুলাই অভিযুক্তরা তাঁর স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়ির পাশে তাঁর জমিতে অবৈধভাবে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে সেখানে মাদক সেবন ও বেচাকেনা শুরু করে। এতে বাধা দেওয়ায় রোববার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়ির প্রধান ফটক, সীমানাপ্রাচীর, দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং ভুক্তভোগীর দুই বোনকে মারধর করে আহত করে। এ সময় দুটি সোনার চেইন, একটি সোনার চুড়ি এবং বিছানার নিচে রাখা ৫০ হাজার টাকা লুট করে নেওয়া হয়। হামলায় বাড়ির প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় গোয়ালঘরের সামনে খড়ের গাদায় আগুন দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রতন মিয়া বলেন, পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম একজন সৎ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, একটি পক্ষ বিভিন্ন সময় তাঁদের হয়রানি করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।
আরেক বাসিন্দা শামসুন্নাহার বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক বিক্রি করছে। ভুক্তভোগী পরিবার এর প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর চাঁদার চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে বাড়ির পাশেই পুলিশেল জমিতে অস্থায়ী ঘর তুলে মাদক বিক্রি শুরু করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় হামলা চালিয়ে বসত বাড়িতে ঢুকে বাড়িটি বসবাসের অনুপযোগী করে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার ১ নম্বর আসামি সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, তাঁকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী দুটি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এ-সংক্রান্ত কিছু রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে। বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply