1. stbanglatv@stbanglatv.com : stbanglatv : stbanglatv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
টানা বর্ষণে মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন - Stbanglatv.com
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন

টানা বর্ষণে মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ Time View

 

মো. শাহীন আলম গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত দেশের বৃহত্তম মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশে ধস দেখা দিয়েছে। এতে সড়কে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সেতু ও সংযোগ সড়কের নির্মাণমান এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে স্থায়ী সংস্কার ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মওলানা ভাসানী সেতুর অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) ও সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (ওফিড)। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৬ মিটার। এটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদিন (৫৬) বলেন, “দেশের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু ও সংযোগ সড়ক যদি মাত্র দুই-তিন দিনের বৃষ্টিতেই ধসে যায়, তাহলে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এই ধস দেখার পর আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি।”

রংপুর থেকে সেতু দেখতে আসা মোছা. ফরিদা পারভীন বলেন, “সেতুর পাশেই বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এখানে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। তাই এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এক বছরের মধ্যেই এমন অবস্থা হওয়ায় নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।”

বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “এত বড় প্রকল্প, এত টাকা ব্যয় ও দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণের পরও যদি বৃষ্টির পানিতে সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে, তাহলে কাজের মান নিয়ে মানুষের প্রশ্ন থাকবেই।”

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির পানিতেই সংযোগ সড়কে গর্ত সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক। ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি দ্রুত স্থায়ীভাবে মেরামত করা প্রয়োজন।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি এটিএম ইঞ্জিনিয়ার মাজেদ আজাদ জানান, ধসে যাওয়া অংশে আপাতত মেরামতের কাজ চলছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। তিনি বলেন, “আর্চ ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ না করা পর্যন্ত এ ধরনের সমস্যা থেকেই যাবে। শুরু থেকেই আমরা বিষয়টি জানিয়েছিলাম।”

সড়ক পাকাকরণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, “সেতুর উত্তর প্রান্তের শহরের মোড় এলাকায় সংযোগ সড়কে ধসের বিষয়টি আমরা দেখেছি। ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “নদী ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ভারী বর্ষণে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।”

উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, “টানা ভারী বর্ষণের কারণে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খুব দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।” নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করায় মাটি সরে গিয়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2023

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি