
শেখ সাদী সুমন জেলা প্রতি নিধী ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ আছে কি নেই—তা বোঝার উপায় নেই। তীব্র গরমে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, তখন চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে গ্রাহকদের সাথে ‘মশকরা’ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই চরম বৈষম্য আর লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে সাধারণ মানুষ।
মধ্যরাতে রণক্ষেত্র: কাঁচের দরজা চুরমার
মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দাতিয়ারায় অবস্থিত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিতরণ বিভাগ-১) অভিযোগ কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, লোডশেডিংয়ের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি কেন্দ্রের কাঁচের দরজা ভাঙচুর করে। সে সময় কর্তব্যরত কর্মচারী খলিলুর রহমান একা ছিলেন, বাকিরা ফিল্ডে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিসংখ্যান যখন ‘ভয়াবহ’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতের বর্তমান অবস্থা যেন এক প্রকার ব্ল্যাকআউট। পরিসংখ্যানে তাকালে চক্ষু চড়কগাছ হতে বাধ্য:
চাহিদা: ৩০ মেগাওয়াট
সরবরাহ: মাত্র ১১ মেগাওয়াট!
বাস্তবতা: ৮টি ফিডারের মধ্যে ৫টিই সবসময় বন্ধ রাখা হচ্ছে।
অন্ধকারে ৭৩ হাজার গ্রাহক
দাতিয়ারা, কাউতলী, কাজীপাড়া, কান্দিপাড়া, পৈরতলাসহ প্রায় ১৭টি এলাকার ৭৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভাগের এই চরম অব্যবস্থাপনার বলি হচ্ছেন। বিতরণ বিভাগ-২ এর অবস্থাও তথৈবচ—সেখানেও চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ মিলছে না।
প্রশাসনের ভূমিকা
ঘটনার পর পুলিশ পরিদর্শন করলেও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা এখন ‘মামলা-হামলার’ পথে হাঁটছেন। সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান জানিয়েছেন, তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জনগণের প্রশ্ন: “আমরা কি শুধু বিল দেওয়ার জন্যই? লোডশেডিং যখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন মানুষের ক্ষোভ সামলানোর দায়িত্ব কি কর্তৃপক্ষের নেই?”
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply