
মোঃ দুলাল আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আজিজ এর বিরুদ্ধে তথ্য কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মালেক।
অভিযোগকারীর দাবী অনুযায়ী তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ প্রতিষ্ঠিত করেছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু সরকারী কর্মকর্তা হয়েও সরকারের আইন মানছেন না চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আজিজ।
জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে তথ্য প্রাপ্তির আবেদনপত্রে তথ্য চেয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা এসিলান্ড বরাবরে আবেদন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মালেক।
অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক অভিযোগ করেন, তফশীলে বর্ণিত কানসাট মৌজা, জে.এল.নং ৫০, খতিয়ান নং-০১ দাগ নং ৫২১, কারও নামে বরাদ্দ বা কেউ জবরদখল করে আছে নাকি তথ্য চেয়ে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা এসিলান্ড বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু তথ্য প্রদানকারী এসিলান্ড তৌফিক আজিজ কোনো তথ্য দেননি।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তথ্য না দেয়ায় প্রতিকার চেয়ে বিগত ১১ ডিসেম্বার ২০২৫ ইং তারিখে জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করেন তিনি। আপিল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে তথ্য ও অভিযোগ শাখা থেকে তায়েফ উল্লাহ হুজাইফ এর স্বাক্ষরে আপিলের জবাব দেন।
জেলা প্রশাসক আপিলের জবাব আপীলকারীকে না দিয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) শিবগঞ্জকে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৪ (৩) (ক)মোতাবেক তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী চাহিত তথ্য প্রদান সমীচীন হবে না মর্মে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী ব্যক্তিকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন।
আবেদনকারী অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক আপিলের জবাবের বিষয়টি নিয়ে বারবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবগঞ্জ অফিসে ধরনা দিলেও এই বিষয়ে কোন সদ উত্তর বা জবাব না দিলে তিনি ০৮/০২/২০২৬ইং তারিখে প্রধান তথ্য কমিশনার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন।
তথ্য কমিশনে অভিযোগ দাখিলের দুইদিন পর অর্থাৎ ১০/০২/২০২৬ইং তারিখে মো. তৌফিক আজিজ সহকারী কমিশনার (ভূমি), শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্বাক্ষরিত একটি পত্র আবেদনকারী বরাবর প্রেরণ করা হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ধারা ৭ এর (চ), (জ) ও (ঝ) মোতাবেক তথ্য প্রদান সমীচীন হবে না।
সরকারি কমিশনার (ভূমি), শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আপিলের জবাবের প্রেক্ষিতে আপীলকারী অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক বলেন যে, উনি যে তিনটি ধারা উল্লেখ করেছেন সে তিনটি ধারার সাথে আমার আবেদনের বিষয়টি সাংঘর্ষিক নয়, আমি একজন আইনজীবী, আমার আইন সম্পর্কে ধারনা আছে। আপীলের জবাবটি “শুভঙ্করের ফাঁকি” ভিত্তিহীন ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া, তাই বাংলাদেশ তথ্য কমিশন বরাবর অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার তথ্য ও অভিযোগ শাখা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তায়েফ উল্লাহ হুজাইফ বলেন, এই সংক্রান্ত ব্যাখ্যা এসিলান্ড অফিস থেকে দেওয়ার জন্য আমরা চিঠি ইস্যু করেছি। আপনাদের যদি কিছু জানার থাকে এসিলান্ড অফিস থেকে জানতে পারেন, এখানে আমার কিছু বলার নাই।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদের বক্তব্য জানতে অফিস চলাকালে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply