
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। টানা দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে অস্থিরতা ও কঠোর দমন-পীড়নের পর এই প্রথম কোনো ইরানি কর্মকর্তা বড় পরিসরের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করলেন।
ওই কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, সহিংসতার জন্য তারাই দায়ী এবং এর ফলে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী—উভয় পক্ষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বিক্ষোভকারী ও কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি জানাননি।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে গত অন্তত তিন বছরে ইরানি সরকারের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ মোকাবিলায় দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। একদিকে অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে বৈধ বলা হচ্ছে, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তা অভিযানের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করা হচ্ছে। সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে।
এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বিক্ষোভে কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল এবং হাজারো মানুষ গ্রেপ্তারের দাবি করেছিল। তবে সর্বশেষ সরকারি স্বীকারোক্তিতে মৃত্যুর সংখ্যা সেই হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply