
মোঃ আব্বাস উদ্দিন:প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা এসআই পরিচয়ে প্রতারণা, তিন কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি সহ তিন জন আটক, একজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান বিশেষ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে সরাইল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে পুলিশ কর্মকর্তা (সাব-ইন্সপেক্টর) পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক ভুয়া পুলিশ সদস্য এবং তিন কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলার আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২৬ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রতারণা করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে পৃথক অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ভুয়া পুলিশ সদস্য হলেন মোঃ আশরাফুল ইসলাম (২০)। তিনি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার আমলাবো ইউনিয়নের রাজারবাগ (পশ্চিমপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তার বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা নং-১৫, তারিখ ০৭ আগস্ট ২০২৬, পেনাল কোডের ১৭০/১৭১/৪১৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সরাইল থানার এসআই (নিরস্ত্র) ফারুক আহাম্মদ।
এদিকে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয় মোঃ সোহাগ মিয়া (২৭) ও জান্নাত বেগম (১৮)-কে। সোহাগ মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের কড়ই গাছতলা এলাকায় এবং জান্নাত বেগম বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী (খাঁবাড়ি) এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে সরাইল থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ০৬ আগস্ট ২০২৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর ১৯(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ বখতিয়ার আলম।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া মাদক কারবারি মোঃ সোহাগ মিয়া একজন চিহ্নিত আসামি। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে আখাউড়া, আশুগঞ্জ, ঢাকা মহানগরের যাত্রাবাড়ী, ভাটারা ও শাহবাগ থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একাধিক মামলা এবং পেনাল কোডের ৩৯৯/৪০২ ধারায় একটি ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত মামলাও। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সরাইল থানা পুলিশ জানায়, অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, মাদক কারবার এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধী চক্রের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply