
লিয়াকত হোসেন জনী,জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল :
টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক সময়ের প্রবাহমান কুচিয়া খাল ভরাট, খাল দখল দূষনে বিপন্ন হয়ে পড়ছিলো। হারিয়েছে তার উত্তাল যৌবন। ভরাট করে স্থানীয়রা তৈরী করেছিলো ফসলী জমি। থেমে যায় তার পানি প্রবাহ , হারিয়ে যায় এর অস্তিত্ব। সরো হতে হতে ড্রেনের মত হয়ে বিলীনের পথ ধরে খালটি। গতি হারা কুচিয়া নিজেকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। জলবদ্ধতা দেখা দেয় সামান্য বৃষ্টিতেই ।ধারণ ক্ষমতা একে বারে কমে আসে। অথচ এক সময় প্রবল বৃষ্টি আর জল প্রবাহে খালটি থাকত চির যৌবনা। কালের পরিক্রমায় খালটি ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে।
বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিলে মধুপুরের আলোকদিয়া ইউনিয়নের রক্তিপাড়া গ্রামের কুচিয়া খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহন করে স্থানীয় প্রশাসন।
৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান।
খাল খনন পূর্ব আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার ভূমি নঈম উদ্দিন, মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ, আলোকদিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান, মৎস্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হোসাইন, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ জাই প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালেব হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি এম রতন হায়দার, জয়নাল আবেদীন বাবলু, পৌর বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ পান্না, বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান মিনজু,ইউনিয়ন বিএনপি নেতা রেজাউল করিম বাবলু, যুবদল নেতা শেখ হযরত আলী, ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীনসহ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধাপে ধাপে মধুপুরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর অংশ হিসেবে কুচিয়া খালটি সারা দেশের ন্যায় খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। এ খাল প্রায় ৯ শ’ ৬০ মিটার খনন করা হবে। এ খালটি খনন হলে কৃষিতে ব্যাপক কাজে আসবে। জলাবদ্ধতা দূর হবে। সেচের সুবিধা হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, এক সময় এ খালটি পানির প্রবাহ ছিল। সেচের সুবিধা হতো। গরু বাছুর ধোঁয়ানো হতো। গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা হতো খালের পানি। কালের পরিক্রমায় খারটি তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে প্রায় ২৪ বছর ধরে মৃত প্রায়। খনন হলে স্থানীয়দের কৃষিতে সুফল বয়ে আসবে।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ভোটারদের হাতের কালিই এখানো শুকিয়ে যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইস্তেহারের কাজ শুরু দিয়েছে। এ খাল খনন তার মধ্যে অন্যতম। এ খালটি খনন হলে এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব হবে এমনটাই মনে করেন তিনি।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন বলেন, সারা দেশের ন্যায় মধুপুরেও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে আজ থেকে। প্রায় এক কিলোমিটার (৯৬০ মিটার) কুচিয়া খালটি খনন কাজের উদ্বোধন হয়েছে। এটি খনন হলে এ এলাকার কৃষিতে ব্যাপক কাজে আসবে বলে তিনি মনে করেন তাছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহযোগী হবে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply