
ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটুক্তি, ইসলাম ধর্ম ও মেয়েদের পর্দা করা নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় আকাশ কুমার সিংহ (২৬) নামের এক যুবককে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে তাঁর নিজ বসতঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় ৩০/৩৫জন ইসলাম ধর্মের ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা। খবর পেয়ে ওইদিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ধর্মপাশা থানার একদল পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় উপজেলার খয়েরদিরচর গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম (২৫) বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই ধর্মপাশা থানায় একটি মামলা করেছেন।
ধর্মপাশা থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার থানা উন্নয়ন কেন্দ্রের বাসিন্দা আকাশ কুমার সিংহ (২৬), দুধবহর গ্রামের আল আমিন (৩২) ও খয়েরদিরচর গ্রামের খায়রুল ইসলাম (২৫) তিনজনই পূর্ব পরিচিত। খায়রুল ইসলাম ও আকাশ কুমার সিংহ উপজেলা সদরে একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। ২৮অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার সদর বাজার থেকে তাঁরা তিনজন উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে মোটর সাইকেলযোগে ঘুরতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত ৯টা ২০মিনিটের সময় উপজেলার আহম্মদপুর বাজারে আসা মাত্রই আকাশ কুমার সিংহ বলেন যে,তোমাদের নবী ছয়বছরের একটি মেয়ে বাচ্ছাকে ধর্ষণ করেছে। তোমাদের ধর্মটা হচ্ছে একটা ভুয়া ধর্ম যা একটা মতের ওপর ভিত্তি করে চলে। প্রেমবিহীন তারা বোরকা বা পর্দা করেনা। যতগুলো মেয়ে পর্দা করে প্রতিটা মেয়েই চরিত্রহীন। তখন মোটরসাইকেলটি থামানো হয়। এ নিয়ে খায়রুল ইসলাম ও আল আমিন প্রতিবাদ করেন। এক পর্যায়ে আকাশ কুমার সিংহের সঙ্গে তাঁদের দুইজনের কথাকাটাকাটি হয়। এ নিয়ে আকাশ কুমার সিংহ তাঁর কথাগুলো প্রমাণ করার জন্য চ্যালেঞ্জ করে কিছুদিনের সময় চেয়ে নেয়। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে খায়রুল,আল আমিনসহ ৪/৫জন আকাশের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটুক্তি ও ইসলাম ধর্ম এবং মেয়েদের পর্দা করা নিয়ে বাজে মন্তব্য করার কথা স্বীকার করেন। খবর পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে স্থানীয় ৩০/৩৫জন ইসলাম ধর্মের ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা ক্ষেপে গিয়ে আকাশের বাড়িতে গিয়ে তাঁর নিজ বসতঘরে তাকে আবদ্ধ করে রাখেন। ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানালে ওইদিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আকাশ কুমার সিংহ কে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।
আকাশ কুমার সিংহ বলেন, সব ধর্মের প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। ইসলাম ধর্ম, মেয়েদের পর্দা ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কোনোররকম কটুক্তি ও বিরুপ মন্তব্য আমি করিনি। আমি ও খায়রুল ইসলাম কনফিডেন্ট কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করি। আমি গণিত পড়াই। সেও গণিত পড়াবে। এ ন পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা সাজানো হয়েছে।
ধর্মপাশা থানার এসআই হাফিজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় সোমবার রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে। এই মামলায় আকাশ কুমার সিংহ কে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।#
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply