
লিয়াকত হোসেন জনী, মধুপুর(টাঙ্গাইল):
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাবাই ছিলেন তার অনুপ্রেরণা। বাবার সঙ্গীত শুনেই শখ জাগে তার। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াকালেই গান
বাজনা। প্রথমে শখ পরে নেশা ও পেশা। চাকরির পাশাপাশি গান চর্চা। নিজে শিখেন ও শিখান। স্থানীয়
ভাবে গান শিখানো। ধীরে ধীরে পেশা হয়ে দাঁড়ায়। বাসা বাড়ি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শুরু
হয় গান শিখানো। বাদ্য যন্ত্র আর সুর সঙ্গীত হয়ে উঠে জীবনের শেষোব্দি অবলম্বন। আট দশকে গড়ে
তোলেছেন সহস্রাধিক সঙ্গীত শিল্পী শিষ্য। দিনের পালাক্রমে হয়ে উঠেন ওস্তাদ। আর মানুষটি হয়েছন
টাঙ্গাইলের মধুপুরের আসাদুজ্জামান মন্টু। তিনি মধুপুরের কাইতকাই গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৪৩
সালে জন্ম নেয়া এ মানুষটি শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তার আগ্রহ ভালোবাসা। পড়াশোনার
পাশাপাশি তিনি গানও শিখতেন।
গত শুক্রবার সকালে মধুপুরের সেগুনবাগান চত্বরে নজরুল একাডেমির সামনে বসে তার সাথে কথা হয়।
গান শেখানোর এক ফাঁকে চা পান করতে এসেছিলেন তিনি। স্থানীয় নজরুল একাডেমির সভাপতিসহ
সংগঠনের কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষকরা সাথে ছিলেন। এ সময় তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তার
সঙ্গীত জীবনের নানা কথা। তিনি জানান, ছাত্র জীবন থেকেই গানে প্রবেশ। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক।
তিনি তার বাবার দেখাদেখি গানের প্রতি তার আগ্রহ বেড়ে যায়। চলে গান বাজনা বাদ্যযন্ত্র আর
পড়াশোনা। ১৯৬৭ সালে মধুপুর রানী ভবানী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৬৭ সালে
স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরিতে যোগদান করেন মধুপুরের সুরসাধক মন্টু ওস্তাদ। তিনি ১৯৬৩ সালে একই গ্রামে
বিয়ে করেন। একজন সাদামাঠা মানুষ। চশমার ফ্রেমে এখনও তার সুরের দৃষ্টি সীমানা। সংগীতের প্রতি
তার অগাধ ভালোবাসা।
আসাদুজ্জামান মন্টু নিরবধি বয়ে চলেছেন সুরের সাগরে। ১৯৬৫ সাল হতে সংগীত শুরু করে জীবন
সায়াহ্নে এসেও ৮১ বছর বয়সে সুর সংগীত, বাদ্যযন্ত্র, তবলার সুরের মূর্ছনায় এখনো দিন কাটে। কাক
ডাকা ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত তার নেশা পেশা আর ধ্যান জ্ঞান হলো সংগীতের বর্ণ বিলিয়ে
বেড়ানো। ১৯৪৩ সালে জন্ম নেওয়া মানুষটি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিলেও সংগীত থেকে অবসর
নেননি। ৮ সন্তানের জনক তিনি। সংগীতের হাতেখড়ি নিয়েছেন ওস্তাদ জ্ঞানেন্দ্র লাল বর্মন ও শুকুর আলীর
কাছ থেকে । প্রথমে বাঁশের বাঁশি দিয়ে শুরু করেন গান। পোড়া বাঁশের বাঁশির সুরে এক সময় উতলা
হয়ে উঠত তার মন। সঙ্গীতের ফেরিওয়ালা এ মানুষটি ধনবাড়ি মধুপুর ও ঘাটাইলের পথে প্রান্তরে সংগীতের
বীজ বপন করেছেন। প্রায় হাজার খানেক সংগীত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়েছেন সুর ও তালের মুর্ছনা।
শেকড় গড়েছেন সঙ্গীত জগতে। আজীবন সংগীতের মাঝে বেঁচে থাকতে চান মধুপুরের সকলের পরিচিত
মুখ মন্টু ওস্তাদ নামে খ্যাত আসাদুজ্জামান মন্টু। তিনি ধনবাড়ি সংগীত একাডেমি, মধুপুর নজরুল
একাডেমি, তারার মেলা কিন্ডারগার্ডেন, চারুশীলনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংগীতের ঝুলি নিয়ে
ঘুরে বেড়িয়েছন। তিনি সংগীত গবেষক হিসেবে কাজ করতে চান এমনটাই প্রত্যাশ্যার কথা
জানিয়েছেন মন্টু ওস্তাদ।
তার প্রিয় গান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব গানই তার প্রিয়। তবে নজরুলের – সতি শিহরি
কেমন বলো? নাম শোনে যার এত প্রেম জাগে এ গান গুলো ভালো লাগে বলে জানালেন
মন্টু ওস্তাদ।
মধুপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাকে হরহামেশাই দেখা যায়। কখন ওস্তাদ হিসেবে, কখনও
বিচারক হিসেবে।তিনি যত দিন বেঁচে আছেন, ততদিন সঙ্গীতের মধ্যেই বেঁচে থাকতে চান।
মধুপুর চাকরিজীবী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
তিনিসহ তার কয়েক বন্ধু তার কাছে গান শিখেন। এ এলাকায় রয়েছে তার অনেক শিষ্য। ভালো যত্নের মাধ্যমে গান শিখান বলে জানালেন তিনি। মধুপুর নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর
ছিদ্দিক জানান, তাদের একাডেমিতে গানের শিক্ষক ও ওস্তাাদদের মধ্যে একজন হলেন মন্টু ওস্তাদ। সঙ্গীতের
প্রতি তার ভালোবাসা মমত্ববোধ প্রেম সবাইকে মুগ্ধ করে। তিনি সকলের মাঝে সুরসাধক হিসাবে বেঁচে থাকতে চান।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply