1. stbanglatv@stbanglatv.com : stbanglatv : stbanglatv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
কুড়িগ্রাম পৌরসভার দুই কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় প্রধান নির্বাহীকে প্রত্যাহার - Stbanglatv.com
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রাম পৌরসভার দুই কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় প্রধান নির্বাহীকে প্রত্যাহার

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৩ Time View

 

মোঃ হামিদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম পৌরসভার দুই কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ ওঠার তিন দিনের মাথায় পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে কুড়িগ্রাম পৌরসভা থেকে প্রত্যাহার করে স্থানীয় সরকার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের খবরে পৌর কর্মচারীরা পরস্পরকে মিষ্টি বিতরণ এবং স্বস্তি প্রকাশ করে উল্লাস করেন।

 

 

রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার উপসচিব মো. সরোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বীকে পৌরসভা থেকে প্রত্যাহার করে স্থানীয় সরকার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক রশিদকে বিল-ভাউচার ও দাপ্তরিক নথি নিয়ে তলব করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী। কর্মচারীদের অভিযোগ, নথি দেখার একপর্যায়ে ফজলে রাব্বী তাঁকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাঁর জামার কলার ধরে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় ফাইল ছুড়ে মারা এবং ধাক্কা দিয়ে তাঁকে জেলা পরিষদ বাংলো থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।

 

পরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার জন্য নাস্তা নিয়ে গেলে পরিচ্ছন্নতা শাখার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আনারুল ইসলামকেও গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর ভয়ে কর্মস্থল থেকে সরে যান আনারুল।

 

দুই কর্মচারী বিষয়টি পৌর কর্মচারী সংসদের নেতাদের জানালে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বৈঠক করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার আচরণের প্রতিবাদে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন পৌরসভার কর্মচারীরা। তাঁকে পৌরসভায় অবাঞ্ছিত ঘোষণার কথাও জানান তাঁরা।

 

 

পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক রশিদ বলেন, “যারা অধিনস্ত কর্মচারীদের মারধর করে তারা অমানুষ। চাকুরিবিধি লঙ্ঘন করে শারীরিক টর্চার করার কোন এখতিয়ার বা নীতিমালা কর্তৃপক্ষের নেই। সবার ঐক্যবদ্ধ আন্দেলনে প্রধান নির্বাহীকে অপসারণ করা হডেছে। এই সাফল্য শুধু আমার না, সবার প্রাপ্য।”

 

 

কুড়িগ্রাম জেলা পৌর কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান বুলু বলেন, ‘চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে দুই কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। সকালে পৌর সচিব আমাদের জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে আমরা খুশি। এ জন্য জেলা প্রশাসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই। এটি আমাদের আন্দোলনের ফসল।’

 

 

কুড়িগ্রাম পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, কর্মচারীদের কর্মবিরতির মধ্যেই রোববার সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বীকে প্রত্যাহারের বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন।

 

 

তবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

 

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের আদেশের পর কর্মচারীদের দাবির একটি অংশ পূরণ হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত হবে কি না এবং পরবর্তী ব্যবস্থা কী নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চিঠিতে কিছু বলা হয়নি।

 

 

এদিকে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বীর প্রত্যাহারের খবরে কর্মচারীরা উল্লাশ করে এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। তাঁর শাস্তিমূলক দলীর ঘটনায় পৌরসভার কর্মচারী,  ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি