
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের পর থেকেই এর ব্যয় ও অনিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একই সক্ষমতার প্রকল্পের তুলনায় রূপপুরের নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যেখানে অন্যান্য দেশে একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের মতো। ফলে ব্যয়ের এই বড় পার্থক্যকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ জোরালো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ব্যয়ের বিস্তারিত কাগজপত্রও সহজে সরবরাহ করছে না নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রোসাটম, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) রূপপুর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি দুর্নীতির ইঙ্গিত দিতে পারে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
গবেষণায় দেখা গেছে, রূপপুরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় প্রতিবেশী দেশের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনাতেও এই ব্যয় অনেক বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চলতি বছরের আগস্ট মাসে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির উচ্চ ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি ভবিষ্যতে বড় অর্থনৈতিক চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply