
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী এলাকার বাসিন্দা হাতেম মোল্লার জীবন বদলে যায় মাত্র ৫০০ টাকার একটি সহায়তায়। এক সময় অন্যের বাড়িতে কাজ করা এই মানুষটি এখন জমি, গবাদিপশু ও পরিবার নিয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন।
৭৫ বছর বয়সী হাতেম মোল্লা জানান, ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উলাসী-যদুনাথপুর খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনে এলাকায় আসেন। হাজারো মানুষের ভিড়ে তিনিও তাকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নজরে এলে জিয়াউর রহমান তাকে কাছে ডেকে নেন, মাথায় হাত রেখে ৫০০ টাকা দেন এবং গবাদিপশু পালনের পরামর্শ দেন।
সেই টাকা দিয়েই একটি গরু কিনে নতুন পথচলা শুরু করেন হাতেম মোল্লা। গরু থেকে বাছুর, দুধ বিক্রি—এভাবেই ধীরে ধীরে সঞ্চয় গড়ে তোলেন। পরে জমি কিনে বসতবাড়ি তৈরি করেন এবং চাষাবাদ শুরু করেন। বর্তমানে তার নিজস্ব জমি রয়েছে এবং তিনি পরিবারের সদস্যদের স্বচ্ছলভাবে বড় করেছেন।
স্থানীয়ভাবে ‘জিয়ার খাল’ নামে পরিচিত উলাসী খালটি খননের ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হয় এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননে স্থানীয় জনগণ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন। এতে বহু অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসে।
এলাকার আরেক বাসিন্দা আহম্মদ আলী ভুঁইয়া জানান, খাল খননের জন্য তাদের পরিবার জমি দিলেও এতে কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ খালটি এলাকার কৃষিতে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে যে তারেক রহমান শিগগিরই যশোর সফরে আসতে পারেন এবং ঐতিহাসিক এই খাল এলাকা পরিদর্শন করতে পারেন। এমন খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালটি সংস্কার করা হলে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে এবং এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply