
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অবাধ্যতার ক্ষেত্রে সরাসরি বরখাস্তসহ কঠিন শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ অমান্য করেন, সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা দেন বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দলবদ্ধভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন—তাহলে তা ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ধরনের অপরাধের জন্য তিন ধরনের শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে—
পদ বা বেতন গ্রেডে অবনমন
বাধ্যতামূলক অবসর
চাকরি থেকে বরখাস্ত
আইনে তদন্ত প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযুক্তকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। প্রাথমিক সত্যতা মিললে ৩ দিনের মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে, প্রয়োজনে আরও ৭ দিন সময় বাড়ানো যাবে।
নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিলে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অদক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের ক্ষেত্রে আপিল নয়, শুধুমাত্র পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।
সরকার জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনে শৃঙ্খলাহীনতা রোধ করতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply