
ধর্মপাশা প্রতিনিধি।
২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল বরইবাড়ি যুদ্ধ(বা বরইবাড়ী সংঘর্ষ) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বরইবাড়ি এলাকায় সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)এবং ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)জড়িত ছিল।
এ সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী তৎকালীন বিডিআরের সৈনিক (রেজি নং ৬৩৪৬৫)রবিউল ইসলাম জানান, বরইবাড়ি (বিওপিতে )আক্রমণ ছিল বিএসএফের পরিকল্পিত আক্রমণ। তারা মূল রণকৌশলে ভুলের কারণে এই অবৈধ আক্রমণে সফল হতে পারেনি। তাদের আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ,বিওপি দখল সহ বাংলাদেশের কিছু ভূমি তাদের দখলে নিয়ে যাওয়া । এই যুদ্ধে আমরা ২৬ রাইফেল ব্যাটালিয়ন রংপুর থেকে ৩৩ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন জামালপুরের হয়ে বরইবাড়ির যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এই যুদ্ধে ল্যা:নায়ক ওয়াহেদ মিয়া ,সিপাহী মাহফুজ এবং সিপাহী আব্দুল কাদের সহ মোট তিনজন শাহাদাত বরণ করেন। পক্ষান্তরে ভারতের বিএসএফ বাহিনীর ১৬ জন নিহতের লাশ তৎকালীন বিডিআর এর পক্ষ থেকে ফেরত দেওয়া হয়। তাছাড়াও দুইজন জীবিত বিএসএফ সৈনিকেও ফেরত দেয় বিডিআর।
উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাবর্ষণ হয়, যা প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়।
এই ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি হয়।তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার বিএসএফের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রতিবাদ জানালেউ ,আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ভারতের বিএসএফ বাহিনী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ও অবৈধ আক্রমণের বিপক্ষে শক্তিশালী কোন অবস্থানে যায়নি তৎকালীন সরকার প্রধান।
বরইবাড়ি যুদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে একটি উল্লেখযোগ্য সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দুদেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে। পরবর্তীতে উভয় দেশই সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে আলোচনা চালিয়ে যায়।
এই ঘটনাটি এখনও বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply