
মো:ফারুক হোসেন,সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের সিংড়ায় প্রেমের টানে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন এবং পরবর্তীতে আইনি উপায়ে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করার পরও কনেপক্ষের দায়ের করা অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় এক যুবককে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার রাধানগর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
বিনা অপরাধে মো. মাহফুজুর রহমান (২১) নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৭/৯(১)/৩০ ধারায় (অপহরণপূর্বক ধর্ষণ ও সহায়তার অপরাধে) মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আনোয়ারুল ইসলাম আনু এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে সিংড়া উপজেলার ১১ নং ছাতারদিঘী ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের মো. আ. হাকিমের ছেলে মো. মাহফুজুর রহমানের (২১) বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী পাখিশা গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া খাতুন (১৮)। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে মেয়েটি সাবালিকা হওয়ায় এবং ভালোবাসার মর্যাদা দিতে মাহফুজুর রহমান তাকে নিয়ে নওগাঁ নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে যান এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তবে বিয়ের পরপরই মেয়ের পরিবার বিষয়টি মেনে না নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ছেলের বাড়িতে চড়াও হয় এবং মেয়েকে ফেরত চায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও গ্রাম্য মুরুব্বীদের মধ্যস্থতায় সাদিয়া খাতুনকে সাময়িকভাবে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কিন্তু বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কিছুদিন পর, নিজের ইচ্ছায় সাদিয়া খাতুন আবারও স্বামী মাহফুজের বাড়িতে ফিরে আসেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাদিয়ার বাবা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মাহফুজ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মাহফুজ ও সাদিয়া দুজনকেই আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।
সর্বশেষ গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে সাদিয়ার বাবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেয়েকে নিজের জিম্মায় নিয়ে যান। তবে মেয়ে সম্পূর্ণ সাবালিকা হওয়া এবং নিজের ইচ্ছায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করে স্বামীর ঘরে আসার পরও, ছেলে মাহফুজুর রহমানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে এলাকাবাসী জানান, “মাহফুজ কোনো অপরাধ করেনি। মেয়ে নিজে সজ্ঞানে এসে তাকে বিয়ে করেছে। অথচ আজ তাকে অপহরণ ও ধর্ষণের মতো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানো হচ্ছে। আমরা আমাদের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি যেন এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান এবং একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মাহফুজের মুক্তির ব্যবস্থা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন।”
এই বিষয়ে জানতে মামলার বাদী ও মেয়ের পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মাহফুজের পরিবার ও এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের মানবিক সহযোগিতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply