
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
ময়মনসিংহের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সংকটের অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও গর্ভনিরোধক সামগ্রী না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী রোগীরা।
সদর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের গৃহবধূ লিমা খাতুন বলেন, অসুস্থ হয়ে ক্লিনিকে গেলেও ডাক্তার পাওয়া যায় না, ওষুধও নেই। শুধু স্যালাইন ও আয়রন ট্যাবলেট দিয়ে রোগীদের ফেরত পাঠানো হয়। এতে ক্লিনিকের প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেছে।
একই গ্রামের ফাতেমা আক্তার জানান, অনেক নারী গর্ভনিরোধের জন্য ক্লিনিকে গেলেও “সুখী” ট্যাবলেট, কনডম বা ইনজেকশন পান না। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্টের পর থেকে নতুন করে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আগে প্রায় ২২ ধরনের ওষুধ পাওয়া গেলেও বর্তমানে সীমিত কিছু ওষুধ—যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ওরস্যালাইন—দিয়েই সেবা চালানো হচ্ছে।
গোপালনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী সাদিয়া আক্তার বলেন, ওষুধ না থাকায় প্রতিদিনই রোগীদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে সেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহজাহান কবীর জানান, প্রায় এক বছর ধরে কেন্দ্র থেকে ওষুধ সরবরাহ নেই। চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, সরবরাহ পেলেই ক্লিনিকগুলোতে বিতরণ করা হবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, জেলায় প্রায় ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ট্রাস্টের অধীনে যাওয়ার পর থেকেই নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে এবং ওষুধ সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply