
হুমায়ুন রশিদ জুয়েল স্টাফ রিপোর্টার
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তিনটি হাওরাঞ্চলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে আগাম বন্যার শঙ্কা কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে হাওরের বোরো চাষীদের মাঝে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গজারিয়া, চাতাল ও সোনাইর—এই তিনটি হাওরে প্রায় ১১.৭৬ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে এসব কাজ সম্পন্ন হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধগুলোতে মাটি ভরাটসহ ঘাস লাগানোর কাজও শেষ হয়েছে, যা বাঁধকে আরও টেকসই করে তুলবে।
বর্তমানে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে পাকা ধানের সোনালি সমারোহ। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো ধান কাটায়। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন চাল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা।
তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হওয়ায় কৃষকেরা অনেকটাই দুশ্চিন্তামুক্ত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় জানান, সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় এ বছর বোরো ফসল নিরাপদ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন দামিহা ইউনিয়ন গজারিয়া ব্লকের ৬৫০ হেক্টর জমি বাঁধের কারণে রক্ষা পেয়েছে, এতে প্রায় ৪২০০ টন ধান পাবে।চালের হিসাবে প্রায় ২৯০০ টন রক্ষা পেয়েছে।
গজারিয়া হাওরের কৃষকেরা বলেন, সময়মতো বাঁধ সম্পন্ন হওয়ায় তারা এখন নিশ্চিন্তে ধান কাটতে পারছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “নির্ধারিত সময়েই আমরা বাঁধের কাজ শেষ করেছি। হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। কৃষকেরা ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত আমরা প্রস্তুত থাকবো।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এরপর ২০১৮ সাল থেকে প্রতিবছরই ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply