
(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা অথবা ২ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার দাবি করেছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র। চাঁদা না দেওয়ায় তার নির্মাণাধীন বসতঘর তৈরিতে বাধা প্রদান, মিস্ত্রিদের ওপর হামলা, নির্মাণসামগ্রী লুট এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিকের নাম মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ‘স্বাধীন বাংলা নিউজ’-এর সাব-এডিটর, মধুপুর-ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
এ ঘটনায় চাঁদাবাজি, চুরি ও হুমকির অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন— কিসমত ধনবাড়ী (খাসপাড়া পশ্চিম) এলাকার সেলিম হোসেন (৩০), আনোয়ার হোসেন (৪০), নাছিমা বেগম (৩৫), হামিদা বেগম (২৫), বর্নিচন্দ্রবাড়ী এলাকার মোছা. আন্না বেগম (৪৫), আকলিমা বেগম (২৬) এবং কয়াপাড়া এলাকার রাহেলা বেগম (৩০)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল (২০২৬) মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক তার নিজস্ব জায়গায় বসতঘর নির্মাণের কাজ করছিলেন। খুঁটি ও কাঠ দিয়ে ঘরের কাঠামো তৈরির পর চালের টিন ছাউনির কাজ চলছিল। এ সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। তারা আব্দুর রাজ্জাককে উদ্দেশ্য করে বলে, “তুই আমাদের ফুফু ও বোনদের জমি কম মূল্যে কিনেছিস। এখানে ঘর তুলতে হলে আমাদের ২ শতাংশ জমি লিখে দিতে হবে অথবা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে।”
সাংবাদিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সেখানে কর্মরত ৮-৯ জন কাঠমিস্ত্রির ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ঘরের কাঠামো ভাঙচুরের চেষ্টা করে। আতঙ্কে মিস্ত্রিরা কাজ ফেলে চলে যান।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার পর ওই দিন দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে নির্মাণাধীন ঘর থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল (৭০ হাজার টাকার টিন, ৭০ হাজার টাকার কাঠ এবং ৩০ হাজার টাকার লোহা-লক্কর) চুরি করে নিয়ে যায়।
পরদিন সকালে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক চুরির বিষয়টি দেখতে পেয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের কাছে এর কারণ জানতে চান। তখন প্রধান অভিযুক্ত সেলিম হোসেন দম্ভোক্তি করে বলে, “তুই আমাদের কথা শুনিস নাই, তাই আমরা তোর টিন, কাঠ, লোহা চুরি করেছি; পারলে তুই ঠেকা।” আরেক অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে, “তোর সাথে তো কেবল খেলা শুরু। আইনের আশ্রয় নিলে তোকেসহ তোর পরিবারের সবাইকে খুন করে চিরতরে সাধ মিটিয়ে দিব।”
জমির মালিকানার বিষয়ে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে ধনবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাফ কবলা দলিলের (নং ৬৬৪/২০২৩) মাধ্যমে ওই ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ১নং বিবাদীর ফুফু এবং ২নং বিবাদীর বড় দুই বোন পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে জমির মালিক ছিলেন। তাদের কাছ থেকেই বৈধভাবে জমি কিনে বি.আর.এস রেকর্ড ও নামজারি সম্পন্ন করে তিনি ভোগদখলে আছেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের উচ্ছৃঙ্খল ও দাঙ্গাবাজ আচরণের কারণে তাদের পরিবারের সদস্যরাই অতিষ্ঠ। গত ২৩ এপ্রিল (২০২৬) টাঙ্গাইল আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাদের আপন বড় বোন এবং ভাইয়ের মেয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আব্দুর রাজ্জাক চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply