
এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের জ্বালানি তেলের চরম ভোগান্তির কারণ জানা গেল, তারা বলছে “২০ কিলোমিটার দূর থেকে তেল নিতে এসেছি। তেল পাবো ৫০০ টাকার, অথচ আসা-যাওয়াতেই একশ’ থেকে দেড়শ’ টাকার তেল পুড়ে যাচ্ছে। এক শিক্ষকের বাড়ি পদ্মা নদীর তীরবর্তী, তিনি দেবীনগর গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলের জ্বালানী সংগ্রহ করতে শহরের পেট্রোল পাম্পে আসেন । কিন্তু শুধু দেবীনগরই নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী চরাঞ্চলের অন্তত আটটি ইউনিয়নে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো ফিলিং স্টেশন। ফলে এসব এলাকার মানুষকে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে আলাতুলী, চরঅনুপনগর, দেবীনগর, চরবাগডাঙ্গা, ইসলামপুর, নারায়ণপুর, শাহজাহানপুর ও সুন্দরপুর ইউনিয়নে খোলাবাজারে জ্বালানী তেল বিক্রি হতো। এতে সহজেই প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে পারতেন ভোক্তারা। তবে সাম্প্রতিক জ্বালানী সংকটের কারণে প্রশাসনের নির্দেশনায় খোলা বাজারে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। বাধ্য হয়ে তাদের দূরের ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চরঅনুপনগরের বাসিন্দা আরিকুল ইসলাম বলেন, “পাম্পে একবারে ৫০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। আবার একবার তেল নিলে পরবর্তী ৫ দিন আর নেওয়া যায় না। আমাদের মতো দূরের মানুষের জন্য অন্তত এক হাজার টাকার তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।” শাহজাহানপুর ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম জানান, “তেল নিতে এসে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন বিকেল সাড়ে ৪টা—তবুও তেল পাইনি। আবার সন্ধ্যা ৬ টা বাজলে ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া বন্ধ করছে। সময়ের মধ্যে তেল না পাইলে ঐ দিন পুরো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই এই ঝামেলা এড়াতে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। এ ব্যাপারের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, জ্বালানী তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনতে অ্যাপের মাধ্যমে বিতরণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একজন গ্রাহক ৫ দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল নিতে পারবেন। এর ফলে একই মোটরসাইকেলে একাধিকবার তেল নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে এবং অনিয়ম অনেকটাই কমেছে। তিনি আরও জানান, সবার জন্য একই নিয়ম কার্যকর রাখা হয়েছে এবং খোলা বা কালোবাজারে তেল বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, চরাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply