
মোঃজহির খান,জেলা প্রতিনিধিঃ ফেনী
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নে এক বিচিত্র রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে বর্তমানে ৭-৮ জন বা তারও বেশি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এই প্রার্থী আধিক্যের পেছনে জনসেবার চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও “ব্যক্তি পলিসি মেকার” হওয়ার প্রবণতাই বেশি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ব্যক্তি পলিসি মেকার ও কৌশলী রাজনীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘোপালে এমন কিছু ব্যক্তি সামনে আসছেন যারা কোনো আদর্শ বা দলীয় নীতি নয়, বরং নিজস্ব স্বার্থ ও কৌশলে সিদ্ধান্ত নেন। এরা মূলত ‘ব্যক্তি পলিসি মেকার’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। দলীয় মনোনয়ন পাবেন না জেনেও তারা মাঠ গরম রাখছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের ‘হাই প্রোফাইল’ প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন।
কেন এই অকাল প্রচারণা?
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বড় একটি অংশ মূলত দর-কষাকষির (Bargaining) ক্ষেত্র তৈরি করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো:
সমঝোতার রাজনীতি: নির্বাচনের আগে প্রকৃত ও শক্তিশালী প্রার্থীর সাথে সমঝোতা করে বড় অংকের আর্থিক সুবিধা নেওয়া।
ভোট বিভক্তির ভয় দেখানো: নিজেদের কিছু নিজস্ব বলয় তৈরি করে প্রকৃত প্রার্থীকে চাপে রাখা, যাতে শেষ মুহূর্তে তাকে বসিয়ে দেওয়ার জন্য বড় কোনো সুবিধা দিতে হয়।
ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার: ভোটের মাঠে প্রার্থী হওয়ার তকমা ব্যবহার করে ভবিষ্যতে স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব খাটানো।
বিপাকে মূল প্রার্থীরা
এভাবে যত্রতত্র প্রার্থী হওয়ার প্রবণতাকে স্থানীয়রা এক ধরনের ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ বা অনৈতিক চর্চা হিসেবে দেখছেন। এতে করে মূল মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। কারণ, এই সুযোগসন্ধানী প্রার্থীরা সামান্য ভোট কাটলেও অনেক সময় জয়-পরাজয়ে বড় ব্যবধান তৈরি করে দেয়। ফলে যোগ্য প্রার্থীও অনেক সময় বাধ্য হয়ে এসব “পলিসি মেকারদের” সাথে অনৈতিক সমঝোতায় জড়ান।
প্রয়োজন কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ
তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতে, এখনই যদি এই প্রবণতা বন্ধ করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে প্রতিটি ওয়ার্ডে এমন ‘ব্যক্তি পলিসি মেকার’ তৈরি হবে। এতে করে চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়বে এবং দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।
সচেতন ভোটারদের দাবি, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উচ্চপর্যায়ের নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের জন্য যারা নির্বাচনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি। না হলে ঘোপাল ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply