
নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জে হোসেনপুরে এবার সোনালী বোরো ধানের ব্যাম্পার ফলনে কৃষকের চোখে মুখে লেগে আছে আনন্দের ছোয়া। অপরদিকে হোসেনপুরের ধান ও চাউলের সুনাম ছড়িয়ে রয়েছে দেশ জুড়ে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মাঠে মাঠে দুলছে সোনালী বর্নের ধান। মনের আনন্দে ধান কাটা ও মারই কাজ শুরু করেছে কৃষরা।
হোসেনপুর উপজেলার মাঠগুলোতে এখন বোরো ধানের সবুজ বরণ কেটে সোনালী রূপ ধারণ করেছে। এলাকায় প্রায় ৪০ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ ।
যে দিকেই চোখ যায় শুধু ধান আর ধানের শীষ, সারা মাঠ জুড়ে দুলছে সোনালী স্বপ্ন । একটু বাতাসের ছোঁয়া পেলেই দুলছে সোনালী ধানের শীষ। কৃষকের মনে উঁকি দিচ্ছে এক নতুন দিনের স্বপ্ন । তারা ভাবছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড় আবহাওয়া ও শিলাবৃষ্টির ভাবনায় । আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দশ থেকে পনের দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে ধান কাটা ও মারাই কাজ ।
পাকা ধান ঘরে তুলতে জায়গা প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃষকেরা। তারা বলছেন, ধানের চারা রোপনের পর থেকেই আবহাওয়া অনুকূল থাকার কারণে ধানক্ষেতে রোগ-বালাই তুলনামূলক অনেক কম। ধান কাটা-মাড়াই পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকলে বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবে বলে কৃষক-
কৃষাণীরা আশা করছেন।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে
৮ হাজার ১ শত ৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ আবাদ হয়েছে।
উপজেলার সদর সহ
জগদল , গোবিন্দপুর,পুমদী, হাজিপুর, সাহেবের চর,সিদলা, আড়াইবাড়িয়া,ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি
ইউনিয়নের মাঠে মাঠে বোরো ধানের চাষ আবাদ করা হয়েছে। তাদের মনে
একটা চিন্তা প্রাকৃতিক ভাবে কোন ঝড় বৃষ্টি না হলে বাম্পার ফলন ধান ঘরে তুলতে পারবে কৃষকরা।
বেশ কিছু এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা শেষ করেছে কৃষকরা।
উপজেলার জগদল গ্রামের কৃষক শাহজাহানও নাজমুল বলেন এবছর আবহাওয়া অনুকূলে ভাল থাকায় আমরা বোরো ধান বাম্পার ফলন পাচ্ছি। কিন্তু কামাল
দাম বেশি, ধানের দাম কম হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।
কয়েকটা দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদি না আসে আমরা সুন্দরভাবে ঘরে ধান তুলতে পরব ।
আরেক কৃষক বাবুল মিয়া, ও হারুন মিয়া বলেন আমরা বোরো ধানের মধ্যে আটাশ ও ২৯ ধানের আবাদ সর্বাধিক পরিমাণ জমিতে রোপন করে থাকি। কিছু কিছু জমিতে নতুন অন্য জাতের ধানের চাষও করা হয়েছে।
জগদল গ্রামের আরেক কৃষক কাসেম মিয়া বলেন, ধান ভালো হয়েছে কিন্তু ধানের দর কম
হওয়ায় এবং কামলা খরচ অনেক বেশি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা রোজ একজন কামলার দাম আর ধানের দামের কোন মিল নাই , ধান ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা মন তাই বিপাকে আছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান কবির বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। অল্প খরচে অধিক ফলনের জন্য আমরা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেছি। বিশেষ করে বোরো ধান রোপনের শুরু থেকেই আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায় কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করেছেন। যার ফলে এবার হোসেনপুর উপজেলার কোথাও মাঝড়া পোকার
আক্রমণ নেই। এবং উপজেলার প্রতিটি
ইউনিয়নে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply