
কামরুল হাসান নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মহাদেও নদীজুড়ে চলছে অবাধ বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ। দিন-রাত সমানতালে নদী থেকে বালু তুলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ বালু উত্তোলন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে নদী, চরাঞ্চল ও পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রংছাতি ইউনিয়নের পাতলাবন ও সন্ন্যাসীপাড়া সংলগ্ন মহাদেও নদীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর ও গ্রামাঞ্চলে অসংখ্য বালুর স্তূপ জমা করা হয়েছে। কোথাও নৌকায় বালু তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও ট্রলার ও বাল্কহেডে করে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে নদীর অধিকাংশ মূল্যবান বালু ও পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট সম্পদও দ্রুত হারে লুট হয়ে যাচ্ছে। এতে এক সময়ের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
ডাইয়া বাজার থেকে শুরু করে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা রয়েছে অসংখ্য নৌযান। রাতের আঁধারে এসব নৌযানে করে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ অঞ্চলে বালু উত্তোলনের মাত্রা আরও বেড়েছে।
তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, অতীতে হাজারো নৌযানের মাধ্যমে বালু ও পাথর উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
এদিকে পরিবেশ সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে মহাদেও নদী ও এর আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply