
মোহাম্মদ করিম লামা আলীকদম প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা-আলীকদম সড়কে ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করে প্রতিদিন শতাধিক অতিরিক্ত তামাকবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল, যাত্রীসাধারণ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু পরিবহন মালিক ও চালক দীর্ঘদিন ধরে আইন অমান্য করে এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ৫ মে বুদ্ধ ঝিরি (বদুর ঝিরি) এলাকায় একটি তামাকবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি বিশাল গাছে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, অতিরিক্ত বোঝাই ও পাহাড়ি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা ও আলীকদম অঞ্চলের বিভিন্ন তামাক কোম্পানির পণ্য দেশের নানা স্থানে পরিবহনের জন্য প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অসংখ্য ট্রাক চলাচল করে। অধিক মুনাফার আশায় অধিকাংশ ট্রাকেই নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত তামাকপণ্য বোঝাই করা হয়। ফলে যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি সড়কে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক। সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি, ব্রেক বিকল কিংবা চালকের সামান্য অসতর্কতায় মুহূর্তেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA)-এর প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো যানবাহনে নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অতিরিক্ত পণ্য বহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। তথাপি বাস্তবে আইন প্রয়োগে দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—“হায়রে ট্রাফিক বিভাগ, তুমি কার? এসব তামাক কোম্পানির খুঁটির জোর কোথায়?”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে সড়কে ফাটল, গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত ওজন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ট্রাফিক পুলিশের কঠোর নজরদারি ছাড়া এই নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাহাড়ি জনপদের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply